যশোর পুলিশের অভিযানে ৪ ‘চোর’সহ ৫ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর ডিবি পুলিশের অভিযানে আরো ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২টি মাস্টার চাবি ও চোরাই মোটরসাইকেল প্রেরণের কুরিয়ার সার্ভিসের রশিদ কপি উদ্ধার করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক চারজনসহ ৯জনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে। এছাড়া ইতিপূর্বে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১১টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ৪টির মালিক সনাক্ত হয়েছে। ওই মালিকদের মধ্যে পুলিশ সাবেক এক সদস্যও রয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার আটক ৪জনের মধ্যে সোহানুর ইসলাম তোমাল ওরফে মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আটক অন্য তিনজনকে দুইদিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চিংড়াখালি গ্রামের মজিদ সরদার ওরফে মজিদ গাজীর ছেলে আল আমিন আলামিন ওরফে আলমগীর, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর গ্রামের ছমির বিশ্বাসের ছেলে খাইরুল ইসলাম কাজল ওরফে কাজল বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সদরের কাউন্সিলপাড়ার মৃত মনির হোসেনের ছেলে সোহানুর ইসলাম তোমাল ওরফে মামুন এবং রাজাপুর গ্রামের মল্লিকপাড়া কবরস্থান এলাকার শওকত আলী শকোর ছেলে সাদ্দাম হোসেন।

আটক চারজন ছাড়াও এই ঘটনার মামলায় পলাতক আসামি করা হয়েছে, টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার চোর জাবরাজান গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহ আলম, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান বারুইপাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দিন ফকিরের ছেলে হাসান, গোপালগঞ্জের রফিক, চুয়াডাঙ্গা সদরের জাফরপুর গ্রামের শামসুলের ছেলে হিরন ও একই উপজেলার ডিঙ্গেদাহ বাজারের মিলন।

এদিনের মামলায় বাদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শামিম হোসেন বলেছেন, আসামিরা চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় বিক্রয় করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেলে যশোর শহরের বাবলাতলাস্থ জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপ বিভাগের প্রধান ফটকে অভিযান চালানো হয়। এসময় আল আমিন আলামিন ওরফে আলমগীর, খাইরুল ইসলাম কাজল ওরফে কাজল বিশ্বাস ও সোহানুর ইসলাম ওরফে তোমাল ওরফে মামুনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের দখল থেকে একটি ডিসকভার ও একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল, একটি মাস্টার চাবি, দুইটি মোবাইল ফোনসেট ও একটি জননী কুরিয়ার সার্ভিসের রশিদ উদ্ধার করা হয়। ওই রশিদে চট্টগ্রামের শহিন নামে তাদের চক্রের এক সহযোগী সুমন নামে একজনের কাছে পাঠায়। রশিদটি আল আমিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

এছাড়া কোতোয়ালি থানার আরেকটি মামলায় তদন্তাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা থেকে সাদ্দামকে আটক ও একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দখল থেকে আরো একটি লাল রঙের অ্যাপাচি ও একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ৫টি মোটরসাইকেল দুইটি মাস্টার চাবি উদ্ধার এবং চারজনকে আটকের ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানার মামলায় পলাতকসহ মোট ৯জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আটক চারজনকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক আসামি সোহানুর ইসলাম তোমাল ওরফে মামুন জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য তিনজনকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
অপরদিকে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ যশোর, রাজবাড়ি, মাগুরা ও ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে চারটির মালিক সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাবেক পুলিশ সদস্যের গাড়ি রয়েছেন। এর মধ্যে কেশবপুর থানার একটি মোটরসাইকেল চুরি মামলার আলামত ১৫০ সিসি কালো রঙের পালসার, ঝিকরগাছা থানার একটি মামলার নীল রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলের মালিক সনাক্ত হয়।

এছাড়া যশোর সদরের ভোগতি-নরেন্দ্রপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের একটি ইয়ামাহা এফজেড ও খুলনা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল হৃদয় চৌধুরীর একটি এসএফ জিক্সার মোটরসাইকেলের মালিকানা সনাক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার