মোরেলগঞ্জে ইটভাটা গিলে খাচ্ছে নদীর চর ॥ বিলীন হচ্ছে রাস্তা

মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীর বিভিন্ন তীর ও চর থেকে উৎসবের সাথে মাটি কেটে নিচ্ছেন ইটভাটার মালিকেরা। প্রভাবশালী ভাটা মালিকেরা বিধি বহির্ভূতভাবে দিনরাত মাটি কেটে তুলছেন ভাটায়। রাস্তা সংলগ্ন নদীর তীর ও চর থেকে মাটি কাটার দৃশ্য দেখে মনে হয়, যেন উৎসবের সাথে চলছে রাস্তাঘাট ও পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিযোগিতা।

অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ইটসোলিং রাস্তার আংশিক নদীগর্ভে চলে গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় আব্দুল জলিল শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় কোন কোন ভাটার মালিকেরা সাতক্ষীরা থেকে শ্রমিক এনে অবৈধভাবে নদীর চর থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কাজ করছেন। শ্রমিক এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা ১২জন শ্রমিক ভাটির সময় ভাটা মালিকের দেখানো নদীর চর থেকে মাটি কাটি। প্রতি হাজার মাটিতে আমারা আড়াই হাজার টাকা পাই। ২৪ ঘন্টায় দু’বার মাটি কাটা যায়।

চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের মুসলিম ব্রিকস্ কর্তৃপক্ষ ইজারা ছাড়াই এসব চর থেকে মাটি কাটার কারণে চরহোগলাবুনিয়া, বদনী ভাঙ্গা, সানকিভাঙ্গা ও চৌকিদারের হাট গ্রামের সাথে যোগাযোগের রাস্তাটি নদীতে চলে গছে। ফলে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদরাসাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে যাতায়ত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

এ বিষয়ে ৩০৭নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, ইটভাটার কারণে পরিবেশ দুষণতো আছেই, যাতায়ত ব্যাবস্থাও ধ্বংস হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আকরামুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি ভাটা মালিক শাহ আলম মেরামত করে দেয়ার ওয়াদা করেছেন। তবে, নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাট হচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই।

নদীর চর বা ভাঙ্গনকবলিত এলাকা থেকে মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মুসলিম ব্রিকস্ এর মালিক শাহ আলম শেখ বলেন, নদীর চর থেকে কোন মাটি কাটা হচ্ছে না। আমার ক্রয় করা জমি থেকেই মাটি কেটে ইট তৈরি করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাঠামারা গ্রামে নদীর চর থেকে মাটি কাটার বিষয়টি অবহিত হয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে তা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার