কালিয়ায় প্রনোদনার টাকা নিয়ে নয়ছয় অভিযোগ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে

কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের কালিয়ায় প্রানি সম্পদ বিভাগকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া খামরীদের করোনাকালিন প্রনোদনার টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিসের মাঠকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খামারিদের তালিকা প্রনয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ খামারি না হয়েও প্রনোদনার টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দুর্নীতিবাজদের বিচারের দাবিতে উপজেলার উথলী গ্রামের বঞ্চিত খামারিরাসহ গ্রামবাসী সোমবার বিকালে কালিয়া-খুলনা সড়কের বেন্দার মোড় নামক স্থানে মানববন্ধন করেছেন।

উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া করোনাকালিন প্রনোদনা সহায়তার টাকা প্রদানের জন্য উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নিয়োগকৃত মাঠকর্মীদের দায়িত্ব দেয়া হয়। সে হিসাবে প্রথম কিস্তিতে ২০৩ জন গরুর খামারি, ৫২ জন হাস খামারি, ও ১২৫ জন বয়লার খামারি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৭ জন গরুর খামারি, ১১৮ জন বয়লার ও ১১৩ জন মুরগীর খামারির নাম তালিকাভূক্ত করা হয়। তালিকাভূক্তরা ইতিমধ্যেই প্রনোদনার টাকাও তুলে নিয়েছেন। তবে উপজেলায় ১৯৩টি গরুর খামার, ১৭৫টি মুরগীর খামার ও ৬৪টি হাঁসের খামারের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে বলে ওই অফিস সুত্রে জানা গেছে। এদিকে উপজেলার কালিয়া পৌরসভার তালিকা প্রনয়নে খামার না থাকলেও খামারি বানিয়ে মাঠকর্মী সানিয়া খানমসহ ওই অফিসে কর্মরত একটি চক্র স্বজনদের নাম ব্যবহার করে প্রনোদনার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে উথলী গ্রামের শওকত ফকির, মারিয়া বেগম ও শামিম শেখসহ অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রনোদনার তালিকায় থাকা এলডিডিপির মাঠকর্মী সনিয়ার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন গরুর খামারী হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেলেও তার কোন গরুর খামার পাওয়া যায়নি, রামনগর গ্রামের আছাদ শেখের ছেলে সুমন শেখ ১০ হাজার টাকা প্রনোদনা পেলেও তারও খামার নেই। এছাড়া উথলী গ্রামের তাহিরুল ইসলাম সুমন একজন মুরগীর খামারি হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কিন্ত তার মুরগীর খামারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম কাজির মেয়ে জান্নাতুর ফেরদৌস মুরগীর খামারি হিসাবে ১১ হাজার টাকা পেয়েছেন, একই গ্রামের বিলায়েত খন্দকারের ছেলে জাহিদুল ইসলামও প্রনোদনার টাকা পেয়েছেন বলে তার পারিবারিক সুত্র জানিয়েছে। কিন্তু তাদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে খামারের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে উল্লেখিতরা নিজেদেরকে খামারি হিসাবে দাবি করেছেন। এদিকে প্রকৃত খামারিদের বাদ দিয়ে প্রনোদনার টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার বেন্দা ও উথলী গ্রামের বঞ্চিত খামার মালিকরা কালিয়া-খুলনা সড়কের বেন্দার মোড় নামক স্থানে ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধন করেছেন।

অপরদিকে উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যথা সম্ভব যাচাই-বাছাই করে প্রনোদনার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তবে মানুষ মাত্রেই ভুল থাকতে পারে।
কালিয়ার ইউএনও মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, প্রানি সম্পদ বিভাগের প্রনোদনার তালিকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টিতে তিনি খোঁজ নেবেন।

শেয়ার