৯/১১ হামলা নিয়ে তদন্তের প্রথম নথি প্রকাশ করল এফবিআই

সমাজের কথা ডেস্ক॥ যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং বিমান ছিনতাইকারীদেরকে সৌদি আরব সরকারের সমর্থন নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত সংক্রান্ত প্রথম নথি প্রকাশ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এক নির্বাহী আদেশের পর শনিবার তারা এ নথি প্রকাশ করে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুই দশক আগের ভয়াবহ ওই সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের স্বজনরা অনেক আগে থেকেই বাইডেনের কাছে ৯/১১ সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নথি প্রকাশ না করলে বাইডেনকে শনিবার হামলার ২০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতেও বলেছিল তারা।

স্বজনদের ভাষ্য ছিল, সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ যে ৯/১১ হামলার চক্রান্তে সহযোগিতা করেছে, গোপন ওই নথিগুলোতে তা-ই প্রকাশ পাবে।

এফবিআই শনিবার ১৬ পৃষ্ঠার যে নথি প্রকাশ করেছে, তা আংশিক সম্পাদিত। এতে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিমান ছিনতাইয়ে জড়িতদের সঙ্গে তাদের সৌদি সহযোগীদের যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এলেও রিয়াদ যে প্রায় ৩ হাজার লোকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ওই হামলায় সহযোগিতা করেছিল এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ ওই হামলার সঙ্গে তাদের কোনও ভূমিকা নেই বলে দাবি করে আসছিল। এফবিআই নথি প্রকাশের পর রয়টার্স ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা হামলা সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল।

“৯/১১ কমিশনসহ অতীতে হওয়া বিভিন্ন তদন্ত এবং ‘২৮ পৃষ্ঠা’ নামে পরিচিত যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল তার কোনোটিতেই সৌদি আরব সরকার ও তার কর্মকর্তারা যে হামলা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন, বা হামলায় কোনওভাবে জড়িত ছিলেন তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি,” বলা হয় সৌদি দূতাবাসের বিবৃতিতে।

দুই দশক আগের ওই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত বিমান ছিনতাইকারী ১৯ জনের ১৫ জনই সৌদি আরব থেকে এসেছিলেন।

তবে সৌদি আরব সরাসরি আল-কায়েদাকে অর্থ দিয়েছিল- এমন কোনও প্রমাণ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কমিশন। আল-কায়েদাকে সে সময় আশ্রয়-প্রশয় দিয়েছিল আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা। আর সৌদি সরকার আল কায়েদাকে সহযোগিতা না করলেও সৌদি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে এই গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করেছিলেন কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তদন্তকারীরা।

শেয়ার