যশোরের গৃহবধূর সাথে ফেসবুকে প্রেম ॥ আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যাওয়া ফরিদপুরের প্রতারক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রেমের ফাঁদে ফেলে যশোরের এক গৃহবধূর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া আড়াই লাখ টাকাসহ প্রতারক মারুফ আহম্মেদ আদীকে ১২ দিন পর আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। রোববার যশোর আদালতে হাজির করা হলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক জবানবন্দি শেষে আসামি বাদীকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আটক আদী ফরিদপুর সদর উপজেলার গদারডাঙ্গী গ্রামের শেখ আহম্মদের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া এলাকার এক গৃহবধূর সাথে ৩/৪ মাস আগে থেকে আসামি আদীর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়। এক পর্যায় দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুইজনে মোবাইলের মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে কথাবার্তা বলে। এরই মধ্যে গৃহবধূর সাথে আদী দেখা করেন। গত ৩১ আগস্ট স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুপুর আড়াইটার দিকে বাসা থেকে যশোর শহরের মণিহারের সামনে যান গৃহবধূ। যাওয়ার সময় বাসায় থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ও দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যান। মণিহারের সামনে যাওয়ার পরে দুইজনে দেখা করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এক পর্যায় খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে ফরিদপুরের দিকে চলে যায়। এরই মধ্যে বৃষ্টির কাছে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল ফোনসেট আদীর কাছে নিয়ে নেয়। বাসটি রাজবাড়ি জেলার ফরিদপুরের মোড়ে পৌছানোর পর দুইজনই নেমে পড়ে। কথাবার্তার এক পর্যায় ঢাকাগামী একটি বাস এলে আদী দৌড়ে সেই বাসে উঠে পড়ে। কিন্তু গৃহবধূ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে ৩১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরে আলামিন ইসলাম বাঁধন দেখেন ঘরে তালাবদ্ধ স্ত্রী নেই। এসময় তার মোবাইলে রিং করলে কেউ রিসিভ করেনি। পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার স্বামীকে জানায় গৃহবধূ। এরপরে বাড়ি থেকে অন্যান্য লোকজন নিয়ে রাজবাড়ি মোড় থেকে তাকে উদ্ধারের পরে সকল বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর পারিবারিকভাবে আলোচনা শেষে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন গৃহবধূর স্বামী।

মামলাটি স্ব-উদ্দোগে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ডিএম নুর জামাল ও এসআই স্নেহাশীষ দাস গত শনিবার রাতে ফরিদপুরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আদীকে আটক করেন। এসময় প্রতারণা করে নেয়া ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি আদী।

শেয়ার