তরফ নওয়াপাড়ায় দুই ছাত্রকে মারপিট করে মোটরসাইকেল ফোন ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল খুইয়েছে দুই ছাত্র। এসময় তাদের মারপিটও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোর শহরতলীর তরফ নওয়াপাড়ার সেগুন বাগানের সামনে এই ঘটনার পর কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ছিনতাইকারী জুয়েল তরফ নওয়াপাড়ার আতিয়ার রহমানের ছেলে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের আফজাল তরফদারের ছেলে আকাশ হোসেন জানিয়েছেন, তার এপাচি মোটরসাইকেলে করে বন্ধু যশোর সদর উপজেলার জোত রহিমপুর গ্রামের ইয়াকুব্বর আলীর ছেলে বাপ্পি হোসেনকে নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টার দিকে তালবাড়ীয়া গ্রামে রওনা হন। তরফ নওয়াপাড়া সেগুন বাগানের সামনে পৌছালে জুয়েল হোসেন ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেল থামাতে বলে। পরে তাদের দু’জনকে রাস্তার পাশে নিয়ে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায় মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয়। এরপরে তাদের দু’জনকে ভয় ভীতি দেখিয়ে পাশে সেগুন বাগানে নিয়ে মারপিট করে আকাশ হোসেনের কাছে থাকা ১২ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ও বাপ্পি হোসেনের কাছে থাকা নগদ ৭শ’ টাকা ও ১৩ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। মারপিটের পর দু’জনের হাত বেঁধে রাখে। আকাশ হোসেন ও বাপ্পি হোসেনের কাছে তাদের দু’জনে মুক্তিপণ হিসেবে ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায় আকাশের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার খালাতো ভাই সনিকে কিছু টাকা পাঠাতে বললে সে ২ হাজার টাকা বিকাশে পাঠায়। বন্ধু বাপ্পি হোসেনের মোবাইল ফোন দিয়ে তার পিতার কাছে ফোন দিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলে বাপ্পির পিতা টাকা না দেওয়ায় দু’জনকে মারপিট করে মোটর সাইকেল কেড়ে নেয়। ওই দিন রাতে তাদেরকে আটক রেখে পরের দিন বেলা ১১ টার দিকে ঝুমঝুমপুর ময়লাখানার সামনে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যেতে বলে। টাকা নিয়ে গেলে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ফেরত দেবে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা একজন মহিলাকে এনে আকাশ ও বাপ্পির সাথে ছবি তুলে মোবাইল ফোনে রেখে দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার