১০ ‘চোর’ ও ১১ গাড়ি উদ্ধার করে যশোর পুলিশের প্রেস ব্রিফিং ॥ চোরাই মোটরসাইকেল পাচার হয় এসএ এবং জননী কুরিয়ার সার্ভিসে

14

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের ১০ সদস্যকে আটক করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল, তিনটি মাস্টার চাবি, এসএ এবং জননী কুরিয়ার সার্ভিসের ৪টি রশিদ এবং দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন। এসময় ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার, এসআই শামীম হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আটককৃতরা হলো, যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মাঠপাড়ার মতি মোল্যার ছেলে নুর ইসলাম (৩০), সুলতানপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া গোলাম মোস্তফার ছেলে আল আমিন শেখ (২৮), উপশহর ৭ নম্বর সেক্টরের আব্দুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত জাকির হোসেেেনর ছেলে আক্তার হোসেন (৩৯), জগন্নাথপুর গ্রামের আকসেদ আলী গাজীর ছেলে ফারুক হোসেন গাজী (৩৬), নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে কবির ওরফে নুর ইসলাম (৪০), মাগুরা সদর উপজেলার পার নান্দুয়ালী মোল্যাপাড়ার মৃত মুন্সি মাহমুদুল হকের ছেলে মজিবুল হক (৩৩), আসলাম মোল্যার ছেলে রশিদুল হক (৩২), এনামুল হকের ছেলে চঞ্চল (৩১), যশোরের শার্শা উপজেলার কাজীরবেড় গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাধু (৩২) এবং রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার স্বর্পবেতেঙ্গা গ্রামের মৃত জোমারত মল্লিকের ছেলে সালাম মল্লিক (৩৬)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, যশোরের ঝিকরগাছা ও কেশবপুর এলাকার দুইটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই সিন্ডিকেটের সন্ধান পায়। গত বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত যশোর, মাগুরা ও রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেখানো মতে যশোরের পৃথক স্থান থেকে চারটি, মাগুরা থেকে তিনটি এবং রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থেকে ৪টিসহ মোট ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে সোটরসাইকেল চুরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি মাস্টার চাবি, এসএ পরিবহন এবং জননী কুরিয়ার সার্ভিসের চারটি রশিদ এবং দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রেসব্রিফিং তিনি আরো জানিয়েছেন, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটরসাইকেল চুরি করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই করতো। যশোরের এস এ পরিবহন ও জননী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চোরাই মোটরসাইকেল পাচার করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে প্রমাণ আছে। সে কারণে মাগুরার এসএ এবং জননী কুরিয়ার সার্ভিসের দুই কর্মচারীকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

তাছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসে মোটরসাইকেল পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকানা কাগজপত্র যাচাই করে নেয়া হয়। বুকিং হওয়া গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ছায়াকপি কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকে। কিন্তু কিভাবে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাচার হলো তা তদন্ত করে দেখা হবে। আটক ১০জন যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। এদিন আটকের পরে তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে।