বাজারে বাড়ছে তেল ডাল ও চিনির দাম
যশোরে ক্রমশ কমছে টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ, হতাশ ক্রেতারা

12

সালমান হাসান রাজিব
যশোরে ক্রমশ কমছে টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ। গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ এবার অর্ধেক। তারপর একমাসের ব্যবধানে সেটি আরও কমেছে। ফলে ক্রেতাদের চাহিদামাফিক পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না ডিলাররা। তাই ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই পণ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত মাসেও যশোরের জন্য টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্যের বরাদ্দ ছিল ৩ ট্রাক। কিন্তু চলতি মাসে সেই বরাদ্দ কমে ২ ট্রাকে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তেল, চিনি ও ডালের ট্রাক আসা মাত্রই দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাশ্রয়ী দামের পণ্য কিনতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন আগ্রহী ক্রেতারা।

জেলায় টিসিবি পণ্যের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ মিলছে অনেক কম। বাজার দরের চেয়ে টিসিবির পণ্যের দাম অনেক কম হওয়ায় চাহিদা বেশি। তাই বর্তমান বরাদ্দ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা উচিত। তাহলে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ।

জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, বৃহৎ যশোর জেলার জন্য বর্তমান বরাদ্দ অনেক কম বলে তিনি মনে করেন। স্বল্প আয়ের মানুষরা অনেক সাশ্রয়ী দামে সরকারের এই ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পেরে উপকৃত হন। তাই বরাদ্দ আরো বেশি হওয়া দরকার।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের সামনে টিসিবির পণ্য কিনতে আসেন রিক্সা চালক শুকুর আলী। তিনি জানান, তার মতন স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য টিসিবি পণ্য কিনতে পারাটা অনেক উপকারের। কিন্তু ইদানিং সেটি কেনাটাই বেশ কঠিন। তিনি দাবি করেন, টিসিবির ট্রাক আসলে বহুমানুষ ভিড় জমায়। ফলে নিমিষেই পণ্য ফুরিয়ে যায়। ফলে সবসময় সবার পক্ষে পণ্য কেনা সম্ভব হয় না। রহিমা বেগম নামে এক নারী জানান, টিসিবির ট্রাক থেকে স্বল্প দামে ডাল, তেল ও চিনি কিনতে পারাটা তার জন্য লাভজনক। কিন্তু যত মানুষ জড়ো হন তাদের সবাই চাহিদামাফিক পণ্য কিনতে পারেন না। এসব পণ্যের সরবরাহ আরো বাড়ানো দরকার।

জানা গেছে, যশোরের বাজারে মসুর ডালের বর্তমান দাম ১ কেজি ৯০ টাকা। চিনি ১ কেজি ৭৫ টাকা। বোতলজাত ১ লিটার রিফাইন্ড (পরিশোধিত) তেলের দাম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। সেই তুলনায় টিসিবি’র এসব পণ্যের দাম অনেক কম। কেজি প্রতি ডাল ও চিনি ৫৫ টাকা। তেল লিটার প্রতি ১০০ টাকা। যার কারণে টিসিবি’র ট্রাক সেলের পণ্য কেনায় ক্রেতারা বেশি আগ্রহী। অথচ বরাদ্দ চাহিদা বিবেচনায় একেবারেই কম।
যশোরস্থ সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, সারা জেলায় ২ ট্রাক পণ্যের বরাদ্দ মিলছে। গত মাসে এই বরাদ্দ ছিল ৩ ট্রাক। এছাড়া ট্রাকে বরাদ্দ পণ্যের পরিমাণও কমেছে। সূত্র মতে, বর্তমানে ট্রাক প্রতি তেলের বরাদ্দ মিলছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ লিটার। এক্ষেত্রে তেলের বরাদ্দ গত মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। কিন্তু গতবার একেকটি ট্রাকে ২ হাজার লিটার পর্যন্ত সয়াবিন তেলের বরাদ্দ মিলত। আর একেকটি ট্রাকে চিনির বরাদ্দ থাকত ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি। ডালের বরাদ্দ থাকত ১ হাজার ২শ’ কেজি পর্যন্ত।

টিসিবি ডিলাররা জানান, এমাসে ট্রাকপ্রতি চিনির বরাদ্দ মিলছে ৬শ’ কেজি ও ডালের ৪শ’ কেজি। যেটি চাহিদার চেয়ে অনেক কম। তাদের দাবি, এই পরিমাণ বরাদ্দ দিয়ে ক্রেতা চাহিদা সামলানো কঠিন।

যশোর সদরের পৌর এলাকার টিসিবি’র ডিলার লোকনাথ ভান্ডারের গৌরাঙ্গ পাল বাবু জানান, গত বছর ট্রাকপ্রতি যে পরিমাণ বরাদ্দ ছিল সেই পরিমাণ পণ্য এবার পাচ্ছেন না। যার কারণে কোনো পয়েন্টে পণ্য নিয়ে অবস্থানের পর নিমিষেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমাণে পণ্যের চাহিদা অনেক। তাই বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।

টিসিবি ডিলার আদি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এএইচএম আতিকুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ অনেক সীমিত। কিন্তু পণ্যের চাহিদা অনেক। তাই বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।