আগের সরকারগুলো ভূমি অফিসের সংস্কার করেনি কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকারের আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা কেন সারাদেশের জরাজীর্ণ ভূমি অফিসগুলোর সংস্কারের ‘কোনো পদক্ষেপ নেয়নি’, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি ভবন, উপজেলা ও ইউনিয়নের ভূমি অফিস ভবন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ কার্যক্রম এবং ভূমি ডেটা ব্যাংকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভূমি ব্যবস্থাপনাটাকে আরো উন্নত করতে চাই। আর সেই সাথে আমরা জানি যে সারা বাংলাদেশে অনেক সময় ঠিক মত কাজ করা যেত না।”

ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে অনুষ্ঠানে দেখানে একটি তথ্যচিত্রের প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা কিছুক্ষণ আগে যে ভিডিওটা দেখালেন, সেখানে একেকটা ভূমি অফিসের যে জীর্ণ দশা, সেই জীর্ণ দশাটাৃ আমি জানি না কেনৃ আমাদের আগে তো অনেকেই ক্ষমতায় এসেছে, কেন এই ব্যাপারে কোনো সংস্কার করা হয়নি, সেটাই বড় প্রশ্ন।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কিন্তু আরো দুর্ভাগ্যের বিষয়, আরেকটি কথা না বলে পারছি না, এখানে যে আপনারা জানেন যে বিএনপি-জামাত জোট ২০১৩ সালে যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছিল, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকগুলো ভূমি অফিস জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

“তারা শুধু ভূমি অফিস জ্বালায়নি, চলন্ত বাসে যাত্রীরা যাচ্ছে সেখানে নারী, পুরুষ, শিশু, সেই বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মারে। সিএনজি ড্রাইভার সিএনজি চালিয়ে যাচ্ছে তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে, গাড়ির থেকে ড্রাইভারকে টেনে বের করে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে।

“এইভাবে তারা একটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে থাকে। এবং সেখানে প্রায় ছয়টি ভূমি অফিসসহ অনেক ভূমি অফিস তারা নষ্ট করে দেয় এবং সেগুলো পুড়িয়ে দেয়।”

ভূমি অফিসে আগুন দেওয়া ঠেকাতে সে সময় হুঁশিয়ারি দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তখন একটা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে যারা এই ভূমি অফিস পোড়াচ্ছে, তাদের যেন আর কোনোদিন কখনো জমির মালিকানা না থাকে। কারণ তারা তো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আর পাবে কেন। এই হুমকি দেওয়ার পরে কিন্তু তাদের এই ভূমি অফিস পোড়ানোটা বন্ধ হয়।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞ আমরা দেখেছি, কারণ আসলে বিএনপি-জামাত এরা তো মানুষের জন্য কাজ করে না। এদের ক্ষমতাটা অবৈধভাবে দখলকারীর হাত দিয়ে, একটা মিলিটারি ডিক্টেটরের হাতে তৈরি করা এই সংগঠন। কাজেই মানুষের প্রতি এদের কোনোৃ আমি বলব দায়িত্ববোধও নেই, দেশের জন্যও নেই। ক্ষমতা আর ক্ষমতার থেকে টাকা বানানো, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি- এটাই তাদের কাজ এবং সেটাই তারা করেছে।”

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের সেবাটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের জীবনটা সহজ করা এবং দুর্নীতি, অনিয়ম দূর করা- এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্যৃ ।

“সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিই এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাটাকেও ডিজিটালাইজড করে মানুষের সেবাটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আর মানুষের অধিকারটা সুরক্ষিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।”

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন এবং এই সংগঠন নিয়েই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

“আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকে, দেশের মানুষ সেবা পায়, দেশের উন্নতি হয়, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।”

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের পর জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ শুধু গড়ে তোলেননি, তার সময়েই বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ পায়, দেশ একটি ‘সম্মানজনক অবস্থানে’ যায়।

“জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা যখন শুরু হল, তখন থেকেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশে নষ্ট হতে শুরু করে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ নাম শুনলেই মনে হত দুর্ভিক্ষের দেশ, ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। আর খাদ্যের জন্য হাত পাততে হয়, গরিব। বিদেশ থেকে পুরনো কাপড় কিনে এনে আমাদের দেশের মানুষকে পরানো হত। এই রকম একটা অবস্থা ছিল। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক।”

আওয়ামী লীগ সরকারে ফেরার পর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির ‘চেষ্টা শুরু’ হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। এই জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। সেটা সম্ভব হয় একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটা আদর্শ নিয়ে কাজ করি, একটা নীতি নিয়ে কাজ করি, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করি। কেন করি? কারণ এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা, পাশে থেকেছেন এদেশের জনগণ।

“কিন্তু উড়ে এসে জুড়ে যারা ক্ষমতায় বসে, তাদের সেই দায়বদ্ধতা থাকে না। ক্ষমতাকে তারা ভোগের একটা জায়গা বানায়, অর্থ সম্পদ বানানোর একটা মেশিন হিসেবে পায়, আর দেশের মানুষ মরুক বাঁচুক- তা নিয়ে তাদের কোনো খেয়ালই থাকে না।”

দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহামারী সারা বিশ্বে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল আছে।

“সুস্থ অবস্থায় আমরা যেটা করতে পারতাম, সেটা না পারলেও আমরা কিন্তু থেমে যাইনি। কাজেই, আমরা কিন্তু থেমে যাব না। আমরা এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”

দেশের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা যেটা লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, ২০০৮ এ ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ আমরা হয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা যে পরিকল্পনা রেখে যাচ্ছিৃআর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, কাজেই বাংলাদেশ তার এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবে। অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার