যশোরে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় স্বস্তি
১৫০ শয্যা করোনা বেডের ১০০ শয্যাই খালি

এস হাসমী সাজু
করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কমে গেছে রোগীর সংখ্যা। কিছুদিন আগেও যেখানে বেড ও আইসিইউ পেতে চেষ্টা ও তদবির লেগেই থাকতো; এখন সে অবস্থা নেই। ১৫০ শয্যা করোনা বেডের ১০০ শয্যাই খালি। নেই অক্সিজেন সংকট। স্বস্তির এই খবরের মধ্যে হাসপাতালে অন্য রোগে আক্রান্তরা ভালো সেবা পাচ্ছেন। অন্তঃ ও বহিঃ বিভাগের চিকিৎসকরাও আন্তরিকভাবে রোগীর সেবা দিতে পারছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে জেলায় করোনা সংক্রমণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে আরোপ করা হয় বিধিনিষেধ। হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়তে থাকে করোনা রোগী ও মৃত্যুর হার। এজন্য হাসপাতালে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে আসতে পারছিলেন না রোগীরা। বর্তমানে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কমে যাওয়ায় অনেকটা নির্ভয়ে হাসপাতালমুখী হচ্ছেন মানুষ।

সূত্র মতে, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ উন্নত সেবা পাওয়ার আশা নিয়ে এই সেবা প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন। কিন্তু করোনার কারণে ও সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে এসে সেবা নিতে পারেননি। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালমুখী হচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৮ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক সপ্তাহে হাসপাতালের অন্তঃ ও বহিঃ বিভাগ থেকে সর্বমোট চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে অন্তঃ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৩ জন এবং বহিঃ বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন ১২ হাজার ৪৯৯ জন। অথচ গত এপ্রিল থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে সাড়ে ৫ হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালের করোনা ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো করোনা রোগীর ভিড় নেই। রোগীর চাপ কমেছে অনেক গুণ। আইসিইউ ও এইচডিইউ বেড অধিকাংশ ফাঁকা না থাকলেও সাধারণ বেড অনেক ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নন কোভিড রোগীর সংখ্যা ১০/১৫ দিন যাবৎ কিছুটা কমেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার জ্বরসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর পূর্বপাড়া থেকে তিন বছরের শিশুকন্যা লামিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন একরাম হোসেন। আসার আগে চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও চিকিৎসক, সেবিকাদের ভালো সেবা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার মেয়ের গত ৩/৪ দিন ধরে শরীর খারাপ যাচ্ছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জন্ডিস হয়েছে বলে জানতে পেরে শঙ্কার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। হাসপাতালে অনেক ভালো সেবা পেয়েছি। শঙ্কায় ছিলাম হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকাদের সেবা ঠিকমত পাবো কি না। কিন্তু এখানে এসে আর সেটা পাইনি।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ভর্তির জন্য বৃদ্ধা বাবাকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন জহিরুল ইসলাম। স্ট্রোক করলে শহরের সিটি কলেজপাড়া থেকে দ্রুত বাবা ইলিয়াসকে (৫৫) নিয়ে আসেন হাসপাতালে। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ দ্রুত ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। জহিরুল ইসলাম বলেন, বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে কোনো অসুবিধা হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা নিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, খুশির খবর হলো যশোরে বর্তমান সময়ে আমরা সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের সফলতা পাচ্ছি। আমাদের এখানে প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা কমছে। এক সপ্তাহ আগে যে করোনা রোগীর চাপ ছিল সেটা এখন নেই। হাসপাতালে ১৫১ শয্যার করোনা ইউনিটে মোট ৫১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে করোনা রেড জোনে ২৬ জন এবং ইয়েলো জোনে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে বেড খালি আছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ৩/৪ মাস সাধারণ রোগীরা করোনার ভয়ে হয়তো হাসপাতালে আসতো না। তবে কিছুদিন ধরে সাধারণ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

শেয়ার