বিশ্ব এখন অতি দূষণকারী সীসাযুক্ত পেট্রল মুক্ত, বলছে জাতিসংঘ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বের কোনো দেশই এখন গাড়ি বা লরিতে সীসাযুক্ত পেট্রল ব্যবহার করেনা বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচী।

এই বিষাক্ত জ্বালানিটি প্রায় এক শতাব্দি ধরে বায়ু, মাটি ও পানিতে দূষণ ঘটিয়েছে যা হৃদরোগ, ক্যান্সার ও স্ট্রোকের কারণসহ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিশ্বের অধিকাংশ ধনীদেশ ১৯৮০-র দশকেই সীসাযুক্ত পেট্রল নিষিদ্ধ করে, কিন্তু শেষ দেশ হিসেবে জুলাইতে আলজেরিয়া এই জ্বালানিটির ব্যবহার থেকে বের হয়ে আসে।

সীসাযুক্ত পেট্রল নির্মূল হওয়ার এই বিষয়টিকে ‘বৈশ্বিক সাফল্যের গল্প’ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জানিয়েছে বিবিসি।

“সীসাযুক্ত পেট্রল ব্যবহার শেষ হওয়ায় ক্যান্সার, স্ট্রোক ও হৃদরোগে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা যাবে আর এটি এমন শিশুদেরও রক্ষা করবে সীসার সংস্পর্শে যাদের আইকিউ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল,” বলেন গুতেরেস।

ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১৯২০ এর দশকের প্রথমদিক থেকে পেট্রলে সীসা মেশানো শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১৯২৪ সালের প্রথমদিকেই এই বিষয়ে সতর্ক ঘণ্টা বেজে উঠে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ তেল কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের শ্রমিকরা খিঁচুনিতে আক্রান্ত হওয়ার পর পাঁচ জনের মৃত্যু হয়, আরও বহু শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

এ ধরনের অনেক ঘটনা সত্ত্বেও ১৯৭০ দশক পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সব ধরনের পেট্রলে সীসা মেশানো চলতেই থাকে।

এরপর থেকে ধনী দেশগুলো এর ব্যবহার বন্ধ করতে শুরু করে, কিন্তু তিন দশক পরও ২০০০ সালের প্রথমদিকে ৮৬টি দেশ সিসাযুক্ত পেট্রলের ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছিল।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচী সীসাযুক্ত পেট্রলের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে ২০০২ সাল থেকে দেশগুলোর সরকার, বেসরকারি কোম্পানি ও নাগরিক গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করে।

এরপর ২০১৬ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান সীসাযুক্ত পেট্রলের বিক্রি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটি দেশে হিসেবে ইরাক, ইয়েমেন ও আলজেরিয়া গত দশকের শেষ পর্যন্ত এই বিষাক্ত জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল।

সীসাযুক্ত পেট্রল ব্যবহার বন্ধের এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস একে ‘বিষাক্ত একটি কালের সমাপ্তি’ বলে বর্ণনা করেছে।

শেয়ার