বারবার সেতুতে ফেরির ধাক্কা লাগা নিয়ে নানা প্রশ্ন ॥ পদ্মাসেতুতে সর্তক নজর সরকারের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পদ্মা সেতুতে বারবার ফেরির ধাক্কা লাগাকে সহজভাবে নিচ্ছে না সরকার। সেতুর স্প্যানে ধাক্কা লাগার পর মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “ঘটনাটি ছোটভাবে দেখার সুযোগ নেই। হালকা ভাবে দেখলে চলবে না। বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। “সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারের প্রকল্প হচ্ছে পদ্মা সেতু। যথাযথ তদন্ত শেষে ব্যবস্থা আমরা নেব।”

এদিকে, পদ্মা সেতুতে আবারও ফেরির ধাক্কা লাগার ঘটনায় ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পাচ্ছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সকালে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শিমুলিয়া থেকে সেতুর নিচ দিয়ে পাটুরিয়া যাওয়ার সময় ধাক্কা লাগে। সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিয়ারের মাঝখানে ১-বি স্প্যানে ধাক্কা লেগে ফেরির ওপরে থাকা প্লাস্টিকের একটা স্ট্যান্ড ভেঙে যায়। ‘নদীতে প্রবল স্রোত’ কারণ দেখিয়ে গত ১৩ দিন ধরে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ধাকার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই এর সঠিক তদন্ত হোক এবং অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি হবে।

“পদ্মা সেতুতে বারবার আঘাতের ঘটনা ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।”
পদ্মা সেতুতে বারবার ফেরির আঘাতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ফলে সেতুর স্প্যানে ফেরি বীর শ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের মাস্তুলের ধাক্কার ঘটনায় টনক নড়ে।
তিন বছর ধরে সেতুর খুঁটি তৈরির হলেও এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। অন্যান্য সব ছোট বড় নৌযান চলছে কিন্তু শুধু ফেরি কেন বারবার আঘাত করছে সেটা নিয়েই নানা প্রশ্ন।
এদিকে, পদ্মা সেতুতে আবারও ফেরির ধাক্কা লাগার ঘটনায় ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ খুঁজে পাচ্ছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার কাছে মনে হচ্ছে, এটা আমরা ব্যক্তিগত উপলব্ধি, আজকের ঘটনায় মধ্যে আমি গভীর ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছি। এটার পেছনে কোনো… আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আমি বলেছি।

“সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এটা গভীরভাবে তদন্ত করতে হবে এবং এটা অবশ্যই উদ্ঘাটন করতে হবে।”

খালিদ মাহমুদ বলেন, “এত সকাল বেলা এই ঘটনা আমরা দেখলাম, জাহাজ গেল, আবার ওখানে গিয়ে কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ভিডিওতে দেখছি (মাস্তুল) বাড়ি খেয়ে পড়ে গেল। বলা হচ্ছে ওটা লোহার।
“লোহার হলেতো পড়ে যাবে না, বেঁকে যাবে এবং ঘষা খাবে। কিন্তু ঘষার কোনো চিহ্ন নেই। এই সংবাদগুলো কেন আসছে, এটাও তদন্ত হওয়া দরকার। আমার কথা ভুল হলে আমি খুশি হব যে এটার মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র নেই।”

পদ্মা সেতুর উচ্চতা অনুযায়ী স্প্যানে কোনো নৌযানের ধাক্কা লাগার কথা নয়- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা তো আমাদেরও প্রশ্ন। পদ্মা সেতুর যে নকশা করা হয়েছে, সেই নকশা অনুযায়ী যে উচ্চতা থাকার কথা, সেখানে কোনোভাবেই উপরের স্প্যানে আঘাত লাগার কথা নয়।
“আজকে এটা হয়েছে, কেন হয়েছে? আমরা বলেছি, এটার নিবিড় তদন্ত করতে হবে। এই ঘটনার পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।”

সেতুর জন্য পদ্মার পানির সমতল থেকে ১৮ মিটার উচ্চতা রাখতে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেতু কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট ৫ মিটার অতিরিক্ত উচ্চতা রেখেছিল। পদ্মা সেতু যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, এ ধরনের ধাক্কায় সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না। ক্ষতি হবে আমাদের মনের। আজকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিশ্বাসঘাতকতার জায়গায় চলে গেছে।”

এর আগে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেতুতে কয়েক দফা ফেরির ধাক্কা লাগার পর পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ভারী যানবাহন নিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা এত সতর্ক! পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য সেখানে ১৩ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এজন্য মানুষের অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা আমাদের অপরাধী ভাবছি।
“এখন তো মনে হচ্ছে এটা পদ্মা সেতুর আঘাত না, আঘাত আমাদেরকেই করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, তিনি তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চাই এটার সঠিক তদন্ত হোক।”

অপরাধী যেই হোক, তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যদিও পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে স্প্যানের মধ্যে তারা কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাননি। আমরা ভিডিওতে দেখলাম সেখানে ধাক্কা লেগেছে। তারা স্থান পরিদর্শন করে দেখেছেন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এগুলো তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।”

শেয়ার