জুলহাজ-তনয় হত্যা: ৬ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলার রায়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসসহ আনসার আল ইসলামের ছয় জঙ্গির মৃত্যুদ-ের রায় এসেছে, পলাতক দুজন পেয়েছেন খালাস।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।

তাদের সবাইকে মৃত্যুদ-ের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় ৬ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকি চারজনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

আর অভিযোগে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক আসামি সাব্বিরুল হক চৌধুরী এবং জুনাইদ আহমদ ওরফে মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।

দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ১৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। নয় মাসের মাথায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হল।

এ মামলায় দ-িত সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। তাদের মধ্যে জিয়া, মোজাম্মেল, আরাফাত ও আকরাম বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি।

এছাড়া প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় জিয়া, আকরাম, মোজাম্মেল ও শেখ আব্দুল্লাহর ফাঁসির রায় এসেছে এ বছরের শুরুতে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

৫৪ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, মূল হত্যাকারীসহ এ মামলার অভিযুক্ত আসামিদের ‘অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল জননিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

“মতামত প্রকাশ ও স্বাধীন কমকা- হতে বিরত রাখতে বাধ্য করার জন্য জুলহাজ মান্নান ও খন্দকার মাহবুব রাব্বি তনয়কে তারা হত্যা করে।”

বিচারক বলেন, এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের অভিন্ন অভিপ্রায় ছিল। তাদের কারো ভূমিকা ছোট বড় করে দেখার সুযোগ নেই। আনসার আর ইসলামের সদস্য হিসেবে তারা সবাই জুলহাজ ও তনয়কে হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেজন্য ৬ আসামিকে একই সাজা দেওয়া বাঞ্ছনীয় হবে।”

রায়ে বলা হয়, “আসামিরা বেঁচে থাকলে আনসার আল ইসলামের বিচারের বাইরে থাকা সদস্যরা একই অপরাধ করতে উৎসাহী হবে। কাজেই উক্ত আসামিরা কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না।”

এর ভিত্তিতে বিচারক ছয় আসামির প্রত্যেককে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৬(২)(অ) ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ- দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে বলা হয়, “এই শাস্তি দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এক দিকে নিহতের আত্মীয়রা শান্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করতে ভয় পাবে, নিরুৎসাহিত হবে।”

শেয়ার