চালের দাম বৃদ্ধি, যশোরে শুরু হচ্ছে অভিযান

সালমান হাসান রাজিব
মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হচ্ছে যশোরে। মাত্রাতিরিক্ত মজুদসহ চাল বিক্রি করে অধিক মুনাফার ক্ষেত্রেও আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে শিগগিরই এই অভিযানে নামছে চালের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটি।

বর্তমানে জেলায় চালের সর্বনিম্ন দাম ৪৬ টাকা ও সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। গত এক মাসের ব্যবধানে জেলায় চালের বাজার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকন, মাঝাারি ও মোটা সব আকৃতির চালের মূল্যই ক্রমশ বাড়ছে। আর এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে যশোরের চালের মিল ও এগুলোর গুদাম পর্যবেক্ষণে রাখবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত মজুদ ও অধিম মাত্রার মুনাফা নজরে পড়লে আইন প্রয়োগ করবে।

জানা গেছে, এক মণ ধানে ২৭ কেজি চাল উৎপাদন হয়। আর এবার ধানের দাম ২৭ টাকা কেজি। এ ক্ষেত্রে ধানের মূল্য ও উৎপাদন খরচ হিসাব করে চালের দাম বেশি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র বলছে, মিলাররা চালের অতিরিক্ত মজুদ গড়ে তুলছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণে মাঠে নামবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে কিনা সেটি জানার জন্য মিলারদের গুদামগুলো ‘চেক’ করে দেখা হবে। পাশাপাশি তাদের হিসেবের খাতাপত্রও যাচাই করে দেখা হবে। এর মাধ্যমে বিক্রি বন্ধ রেখে অন্যত্রও মজুদ রেখেছে কিনা সেটিও জানা যাবে।

যশোরস্থ সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, যশোরে ধান-চালের অবৈধ মজুদ ও বাজারে ঘাটতির কারণ নির্ণয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনার বুনিয়াদে এই কমিটি গঠন হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক এই কমিটির সভাপতি। এছাড়াও এই কমিটিতে রয়েছেন কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।

সূত্র বলছে, চলতি বছর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ধান উৎপাদনের পর চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চালের বাজারমূূল্য কিছু মাত্রায় অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আর এর কারণ নির্ণয় ও মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরামর্শে এই কমিটি গঠন হয়। সূত্র মতে, এমন পরিস্থতিতে ধান-চালের সরবরাহ ঘাটতির কারণ নির্নয় ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে করণীয় নির্ধারণে এক জরুরি সভা হয়। এতে খাদ্য সচিবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এছাছাড়াও কৃষি, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহনকারীরা তাদের আলোচনা ও তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে জানান, ধান-চালের পাইকারী ব্যবসায়ী ও মিলমালিকসহ তৃতীয় পক্ষের মাত্রারিক্ত ধান-চাল মজুদের কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচনা ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এটি নিয়ন্ত্রনে মাঠ প্রশাসনের সরেজমির বাস্তবতা পরিবীক্ষণ ও কারণ উদ্ঘাটন করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই আলোকে ধান চালের মাত্রাতিরিক্ত মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও বিক্রিতে অধিক মুনাফা নিয়ন্ত্রণে যশোরেও এই কমিটি গঠন হয়েছে।

ওই জরুরি সভার পর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছেন, ধান চালের পাইকারি ব্যবসায়ী, মিল মালিকসহ তৃতীয় পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ধান-চাল মজুদের কারণে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য দেখা দিয়েছে। বাস্তবতা যাচাই করে অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

যশোরের বাজার ঘুরে জানা যায়, মোটা চাল ৪৪-৪৫ টাকা, মাঝারি ৪৮ চাল টাকা বিক্রি হয়। এছাড়া চিকন চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এমনকি এর উপরেও আছে চিকন চালের দাম। দ্বিতীয় দফা লকডাউনের পর চালের এই মূল্য বেড়েছে।

জেলা বাজার কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, লকডাউন ও অন্যান্য কারণে কমিটির তৎপরতায় বিলম্ব হয়েছে। দ্রুতই কমিটি বাস্তবতা নিরূপণে মিল ও বাজার পরিদর্শন করবে। এক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যার জন্য প্রশাসনের কাছে কমিটির কাজে সহযোগিতা করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, মজুদের বিষয়টি চিহ্নিত হলে কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে উৎপাদন ও বাজারজাত খরচ বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা দিয়ে মজুদকৃত চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে। জরুরি ও আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমনটি করার বিধান আইনে আছে।

শেয়ার