কোভিড যুদ্ধে সেবার হাত প্রসারিত করেছে যশোর রোড পাঠাগার

সালমান হাসান রাজিব
যশোরে করোনার এই দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পাঠাগার আন্দোলনের সংগঠকরাও। পাঠক সৃষ্টির আন্দোলনে সম্পৃক্তরা কোভিডকালের এই দুর্যোগ সময়ে মানবিকতার হাত প্রসারিত করছেন। শহরের এমন একটি লাইব্রেরি সংগঠনের নাম যশোর রোড পাঠাগার। করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটিও নেমেছে করোনা যুদ্ধে। ফ্রি-অক্সিজেন সরবরাহসহ খাদ্য সহায়তা ও ওষুধ সরবরাহ করছে। টিকার ফ্রি রেজিস্ট্রেশনও করে দিচ্ছে।

জানা যায়, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় জুন মাসে শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় গড়ে ওঠে যশোর রোড পাঠাগার। এর সংগঠকরা জানান, পাঠাগার আন্দোলনের মাধ্যমে পাঠক সৃষ্টি মূল উদ্দেশ্য হলেও সেবামূলক কাজও তাদের লক্ষ্যের অন্যতম। আর তাই করোনা অতিমারির এই দুর্যোগময় সময়টায় নিজেদের সেবামূলক কাজে নিয়োজিত করেছেন।

যশোর রোড পাঠাগার সূত্র জানায়, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এপর্যন্ত ১৫০ জন শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কেজি চাল, আধা কেজি সয়াবিন তেল ও ডাল, ২ কেজি আলু ও ১টি করে বল সাবান।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ফ্রি-অক্সিজেন সেবাও চালু রেখেছে। মুমূর্ষু করোনা রোগীদের প্রয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছে। বিবর্তন যশোরের সাথে তারা যৌথভাবে এ সেবা চালু রেখেছেন। যশোর রোড পাঠাগারের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পলাশ পাল জানান, তাদের সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত। নিজেদের ১৩ কেজির দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। সেই দুটি সিলিন্ডার তারা বিবর্তন অক্সিজেন ব্যাংকে দিয়ে রেখেছেন। তাদের কাছে কেউ অক্সিজেন সেবা চাইলে বিবর্তনের মাধ্যমে সেটি সরবরাহ করছেন।

তিনি আরও জানান, টিবি ক্লিনিক এলাকায় পাঠাগারের উদ্যোগে প্রায় ৩ হাজার নাপা ট্যাবলেট বিতরণ করেছেন। এখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে ২০টি করে এই ট্যাবলেট সরবরাহ করেছেন। সেইসাথে তাদের করোনার ফ্রি-টিকা রেজিস্ট্রেশন চালু আছে।

পলাশ বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হলে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়। বাঘারপাড়ার জামদিয়া, যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক, তালতলা, রেলবাজার হরিজন কলোনী ও শহরতলীর সুজলপুরে রিকসা চালক, ঋষি সম্প্রদায় (জুতো- স্যান্ডেল সারাইকারী) ও গৃহপরিচারিকাদের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি সংগঠন ‘একতারা’ তাদের এসব কাজে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়া তারা ব্যক্তিগতভাবে, পরিচিত ও বন্ধু-শুভাকাক্সক্ষীদের মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন।

যশোর রোড পাঠাগারের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য নবনীতা সাহা তপু জানান, আমেরিকা থেকে একরাম হোসেন তার করোনা আক্রান্ত মা ও ভাইয়ের জন্য বাড়িতে অক্সিজেন সরবারহের জন্য অনুরোধ জানান। বিবর্তন যশোরের মাধ্যমে তার বাড়িতে অক্সিজেন পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি তাদের তহবিলে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিলে অক্সিজেন কেনায় তা ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার