ঘুঘু পাখি পুষে ভাগ্যের পরিবর্তন রাসেলের 

Exif_JPEG_420

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ ॥ পাখি পোষা মানুষের চিরন্তন শখ। শখ থেকেই কেউ কেউ বাণিজ্যিকভাবে পাখির খামার গড়ে তোলেন। এভাবে অনেকের ভাগ্যের চাকাও ঘুরেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে রাসেল আহম্মেদ তাদেরই একজন। প্রথমে শখের বশে ঘুঘু পুষলেও তা এখন ছোট-খাটো বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে। ঘুঘুর ফার্মটি এলাকার সবার দৃষ্টি কেড়েছে।

গত ২ বছর আগে রাসেল কালীগঞ্জ শহর থেকে একজোড়া কবুতর ক্রয় করেন ১ হাজার টাকা দিয়ে। কবুতরের সাথে এক জোড়া দেশি জাতের ঘুঘুর বাচ্চা বাড়িতে শখ করে লালন-পালন শুরু করেন। পরে খুলনা থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের ২ জোড়া ঘুঘু ২৫০০ টাকা দিয়ে কিনে আনেন। বর্তমানে তার খামারে ৭৫ জোড়া অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু আছে, বলেন রাসেল। বর্তমানে তার খামারে তিন রঙের ডায়মন্ড ঘুঘু ও অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু রয়েছে। রাসেল জানান, ঘুঘু পালন করে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। এলাকায় এই প্রথম ঘুঘুর ফার্ম দেখতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ভিড় করছে। প্রতি জোড়া ঘুঘু তিনি আড়াই হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। বিদেশি প্রজাতির ঘুঘু পাখি দেখতে সুন্দর হওয়ায় রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে পাখি কিনতে আসে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পাখি পালনে দিনে দিনে আগ্রহ বাড়ছে রাসেলের। পাখির খামার গড়তে চাইলে প্রথমে দুই তিন জোড়া ঘুঘু দিয়ে শুরু করা ভালো। পাখি পালন করতে হলে তাদের রোগব্যাধি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তা না হলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। যদিও বিদেশি প্রজাতির পাখির রোগব্যাধি খুবই সীমিত। যতেœ রাখলে এগুলোর অসুখ খুব কম হয়, জানান রাসেল। প্রতি মাসে ডিম পাড়ার আগেই খড় বিছানো মাটির পাতিল দেয়া হয়। এ পাতিলেই তারা ডিম থেকে বাচ্চা ফুটায়।

ঘুঘুর খাবার দেওয়া হয় গম,চালের কুড়া, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনা খাবার। কাঠ দিয়ে করা হয়েছে সুন্দর ঘর, সামনে রাখা হয় পানি ও খাবার। প্রতিদিন তাদের ৩ বার খাবার দিতে হয়। বন্য পশুপালন আইনের লঙ্ঘন না হলে ঘুঘু পাখির ফার্মটি আরও বড় করতে চান তিনি।

শেয়ার