পুরাতন ফসল ‘ভুরো’ নতুন করে চাষ হচ্ছে কোটচাঁদপুরের মাঠে, তথ্য নাই কৃষি অফিসে

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি॥ পুরাতন ফসল নতুন করে দেখা মিলছে কোটচাঁদপুরের ফসলি মাঠে। দীর্ঘ দিন পর ভুরোর চাষ করছেন চাষিরা। তবে কৃষি অফিসে সঠিক তথ্য নেই জানালেন কৃষি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য আগের দিনে চাষিরা ধান, যব, গমের পাশাপাশি খাদ্য শষ্য হিসেবে চাষ করত ভুরোর। যা অন্যান্য খাদ্য শষ্যের মত মানুষের খাবার চাহিদা মিটাত। এরপর কালের বিবর্তনে ও চাষের অনেক উন্নতি হওয়ায় হারিয়ে গিয়েছিল ভুরোর চাষ। তবে দীর্ঘ দিন পর কোটচাঁদপুরের ফসলি মাঠে যোগ হয়েছে পুরাতন ভুরোর চাষ। এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর বলুহর গ্রামের ভুরো চাষি আবদার হোসেন জানান, আমিও দীর্ঘ দিন দেখিনি। গেল ২০ বছর নেই এ চাষ। ছোট বেলায় পায়েশ রান্না করে খাওয়া হত। এছাড়া ভুরোর ভাত রান্না করেও খাওয়া যায়। ভুরো চাষি শুকুর আলী জানান, প্রতি বছর আমি ১০ কাঠা চাষ করি। খাওয়ার জন্য একটু রাখি। আর বাকিটা গরুর ঘাস হিসেবে ব্যবহার করি। ভুরোর ঘাস নেপিয়ার ঘাসের থেকে অনেক ভাল হয়। এ ছাড়া ভুরোর দামও ভাল। আমি গেল বছর ১শ টাকা কেজি দরে কিনে এনে জমিতে চাষ করেছিলাম। এবার আমিও ১শ টাকা দরে বিক্রি করব।
সূত্রমতে শুধু শুকুর আলী আর আবদার হোসেন না, এ বছর ভুরোর চাষ করেছেন হোসেন, আশাদুল, ইয়াকুব্বার, ইসরাইল সহ আরো অনেকে। প্রায় ১৫/২০ বিঘা জমিতে এ চাষ হয়েছে। চাষিরা জানান, ইরি ধান কেটে এ চাষ করা যায়। বিঘায় চাষ করতে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। ভুরো চাষ মুলত এখন মানুষ ঘাসের জন্য করছে। এ ঘাস বাজারে ৫ টাকা আটি হিসেবে বিক্রিও হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাসিন আলী জানান,আগে শুনেছি চাষ হত। এখন চাষ আছে কিনা আমার জানা নাই। এছাড়া কত বিঘা চাষ হয়েছে তা আমার অফিসে কোন তথ্য নাই। তবে খোঁজ নিয়ে জানানো যাবে।

শেয়ার