শ্যামনগরে বিধবা নারীর ঘর উচ্ছেদ ও পুলিশ দিয়ে হুমকি ॥ প্রতিকার চেয়ে ডিসি ও এসপি’র কাছে রোকেয়ার আবেদন

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ ২০ বছর যাবত সরকারি খাস জমিতে ঘর বানিয়ে বসবাসকারী শ্যামনগরের ইসমাইলপুর গ্রামের রোকেয়া খাতুনের ঘর উচ্ছেদ ও থানায় জিডি করে হয়রানীর প্রতিকার দাবি করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দেয়া লিখিত বক্তব্যে ইসমাইলপুর ভূমিহীন পল্লীর সাবুর আলীর বিধবা স্ত্রী রোকেয়া খাতুন বলেন, তিনি ও তার মতো দেড় শতাধিক ভূমিহীন পরিবার ওই এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে সরকার তাকে সহ অন্য অনেক ভূমিহীনকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দিয়েছেন। আমার ঘরের লাগোয়া আগের ঘরটিতে আমার মেয়ে ও জামাই থাকে। নতুন ঘরটি এখনও ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় সেখানে আমি মাথা গুজে থাকি। তিনি জানান, গত ১৮ জুলাই ইসমাইলপুর ভূমিহীন পল্লীতে খুনের দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্তকৃত সাবেক সহকারী ভূমি অফিসার দেবাশীষ মুখার্জি ভূমিহীন এলাকায় যেয়ে চাঁদাবাজি করেন এবং চাঁদা দিলে আমাদেরকে ঘর দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। রোকেয়া বলেন, তিনি শ্যামনগরের ইউএনও’র বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ইউএনও আমাকে বাড়িতে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। এর কয়েকদিনের মাথায় ইউএনও নিজেই করোনা আক্রান্ত হন এবং তিনি আমাকে গৃহকর্মী হিসাবে সেবা দেয়ার কথা বলেন। আমি করোনার আতংকে রাজি হইনি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। রোকেয়া তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই তিনি কাজের জন্য ইউএনও’র বাসায় গেলে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরদিন ২৫ জুলাই সকালে শ্যামনগরের ভূমি অফিসার মোহাম্মদ আলী ও বরখাস্তকৃত সহকারী ভূমি অফিসার দেবাশীষ মুখার্জি ১০-১২ জন লোককে নিয়ে দা, কুড়াল, কোদাল নিয়ে আমার পুরনো ঘরটি ভেঙে দেয়। এমনকি বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ইউএনও ব্যক্তিগত আক্রোশে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এসবের পরও ইউএনও’র পক্ষে শ্যামনগর থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি জিডি করা হয়েছে। এই জিডির সূত্র ধরে ২৬ জুলাই রাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার বাসায় যেয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তুমি ইউএনও’র কাছে গিয়ে ক্ষমা চাও, অন্যথায় মামলায় তোমাকে জেল খাটতে হবে’। অপরদিকে বরখাস্ত হওয়া সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেবাশীষ মুখার্জিও আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইউএনও সাহেব তোমার বিরুদ্ধে মামলা দেবেন। তোমাকে জেলে যেতে হবে। তুমি এসব বিষয় সাংবাদিকদের কেন বলেছো?

রোকেয়া খাতুন এসব কারণে আতংকিত উল্লেখ করে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর দুটি পৃথক আবেদন করে এর প্রতিকার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্যামনগর থানার এএসআই শাহাবুল ইসলাম জানান, তিনি জিডির বিষয়টি জানানোর জন্য রাত ১০টায় রোকেয়াদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাকে ইউএনও’র সঙ্গে সাক্ষাত করতে বলেছি মাত্র।

শেয়ার