বিয়ের আগে দৈহিক মিলন ॥ অন্তঃসত্ত্বার কিশোরীর পুত্র সন্তান প্রসব, যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীর সাথে দৈহিক মিলনে অন্তঃসত্ত্বার পর পুত্র সন্তান প্রসবের অভিযোগে আকরাম হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আকরাম হোসেন ওই সন্তানের পিতা দাবি করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জবানবন্দি শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাদী হাসান তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আটক আকরাম হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার ছোট খুদরা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে।

কিশোরীর পিতা বলেছেন, তার বাড়ি বাঘারপাড়ার ছোট খুদরা গ্রামে। বর্তমানে তিনি যশোরের উপশহর ৮ নম্বর সেক্টরের কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন। আসামি আকরাম হোসেন তাদের প্রতিবেশী। সেই সূত্রে পরিচয়। মাঝেমধ্যে আকরাম তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর আকরাম হোসেন বাসায় এসে রাত যাপন করে। আবার পরদিন সকালে চলে যায়। কিন্তু ওইদিন রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ফলে তার কিশোরী মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বিষয়টি লোকলজ্জার ভয়ে এবং ঘৃনায় কাউকে না বলে গোপন রাখেন। সম্প্রতি তার মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারে তার পরিবার। এরপর বিষয়টি নিয়ে আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

কিন্তু আকরামের পরিবার কোন গুরুত্ব না দিয়ে হুমকি দিতে থাকে। এরই মধ্যে গত ২৬ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে তার কিশোরী মেয়েটি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে। এরপর তিনি জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

তিনি আরো বলেন, থানা পুলিশ এসে ঘটনা শুনে তাকে সাথে নিয়ে বাঘারপাড়ার ছোট খুদরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আকরাম হোসেনকে আটক করে। গতকাল মঙ্গলবার আকরাম হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় ওই সন্তানের পিতা আকরাম হোসেন বলে দাবি করে। পাশাপাশি তাকে মুক্তি দেয়ার পরে ওই কিশোরীকে স্ত্রী হিসেবে এবং নবজাতককে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে নিবে বলেও জানা গেছে। এদিন জবানবন্দি শেষে আকরাম হোসেনকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একই সাথে নবজাতক পুত্র সন্তান ও তার মাকে কিশোরীর পিতার জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

শেয়ার