ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জিতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশে আসার আগে দারুণ এক জয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। দুর্দান্ত বোলিং আর কার্যকর ব্যাটিংয়ে শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জিতে তারা ইতি টানল ক্যারিবিয়ায় সফরের।

৬ উইকেটের এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া।

বারবাডোজে সোমবার ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে পেস-স্পিনের সম্মিলিত আক্রমণে ক্যারিবিয়ানদের ১৫২ রানে গুটিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো না হলেও ম্যাথু ওয়েডের অপরাজিত ফিফটিতে তারা জিতে যায় প্রায় ২০ ওভার বাকি রেখে।

মূল ক্রিকেটারদের অনেককে ছাড়া খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়া চোটের কারণে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকেও হারানোর পর এই সিরজ জিতল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অ্যালেক্স কেয়ারির নেতৃত্বে।

বাংলাদেশ সফরে অবশ্য টি-টোয়েন্টি খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এই সংস্করণে ক্যারিবিয়ানে তারা সিরিজ হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। তবে স্কোয়াড এই একই। তাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা আসবে বাংলাদেশে।

কেনসিংটন ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই হারায় এভিন লুইসকে। তবে কোনো আউটে নয়। জশ হেইজেলউডের বল লুইসের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে লাগে হেলমেটে। কনকাশন সতর্কতা হিসেবে তাকে বাইরে যেতে হয়।

তিনে নামা শিমরন হেটমায়ারকে বোল্ড করে ম্যাচের প্রথম উইকেট শিকারি সেই হেইজেলউডই।

স্পিন সহায়ক উইকেটে এরপর ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরেন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনাররা। অ্যাশটন অ্যাগার ও অ্যাডাম জ্যাম্পা তো বটেই, অনিয়মিত স্পিনার অ্যাশটন টার্নারও হয়ে ওঠেন যেন দুর্বোধ্য।

শেই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভোকে ফেরান অ্যাগার। টার্নারের বলে শট না খেলে বোল্ড হন নিকোলাস পুরান। মিচেল স্টার্ক দ্বিতীয় স্পেলে এসে বিদায় করেন কাইরন পোলার্ডকে। এরপর জ্যাম্পার বলে বাজে শটে যখন ফিরলেন জেসন হোল্ডার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন কাঁপছে ৭১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে।

৫ উইকেট পড়ার পরই আবার মাঠে নামে লুইস। দল দেড়শ পার হয় তার ব্যাটেই। স্টার্ককে টানা দুই বলে চার-ছক্কায় একটু আগ্রাসন দেখান তিনি। শেষ দিকে স্টার্ক ও জ্যাম্পার বলে আরও দুটি ছক্কায় পা রাখেন পঞ্চাশে।

অন্য পাশ থেকে সঙ্গী তেমন কাউকে পাননি। সপ্তম উইকেটে আলজারি জোসেফের সঙ্গে তার ৪৪ রানের জুটিই ইনিংসের সর্বোচ্চ।

স্টার্ক পরে ছোবল দেন ক্যারিবিয়ানদের লেজে। লুইস অপরাজিত থাকেন ৬৬ বলে ৫৫ রান করে।

চোটের কারণে বেন ম্যাকডারমট না থাকায় জশ ফিলিপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু করেন মোইজেস হেনরিকেস। দুজনের কেউই অবশ্য টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

২৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে থাকা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পাল্টা আক্রমণ করেন মিচেল মার্শ। যদিও কেবল ২৯ রান করেই আউট হয়ে যান, তবে তিন ছক্কায় তার ২১ বলের ইনিংসটিই রান তাড়ায় দলকে এনে দেয় গতি।

তিনে নেমে অধিনায়ক কেয়ারি ৩৫ রান করে বিদায় নেন। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৪ উইকেটে ৯৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা আশায়।

সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন ম্যাথু ওয়েড। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করা তার ফিফটি জিতিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ৫৪ রানের জুটিতে তাকে সঙ্গ দেন অ্যাগার।

৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েড। সাড়ে চার বছর পর তিনি পান ওয়ানডে ফিফটির স্বাদ।

দুই উইকেটের সঙ্গে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা অ্যাশটন অ্যাগার। তিন ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরা মিচেল স্টার্ক।

সাত বছর পর ওয়ানডে খেলতে নেমে ৩৮ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান পাননি ব্যাটিং-বোলিং কিছুই।

বারবাডোজ থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে বুধবার বাংলাদেশে রওনা দেবে অস্ট্রেলিয়া, ঢাকায় পা রাখবে বৃহস্পতিবার বিকেলে।

শেয়ার