সাতক্ষীরা সদরে জমি আর ঘর পেয়ে মহা খুশি ৪শত পরিবার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি॥ কেউ থাকতেন কবরস্থান এলাকায়। কারো আশ্রয় ছিল ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধের ওপর। জমিজিরাত না থাকায় বাড়িঘর তৈরীর স্বপ্নও দেখেনি তারা কোনদিন।তবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে ঘর ও জমি পেয়েছেন। নিজেরা সুখে থাকতে পারবেন বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সদর উপজেলার ৪শ পরিবার ঘর আর জমি পেয়ে মহা খুশি তারা। রোববার সরেজমিনে যেয়ে তাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা আরো জানান, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। জমি আর ঘর পাওয়া মানুষ গুলো প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া ও মঙ্গল কামনা করছেন।

এখন তারা বাড়ি সাজিয়ে তুলছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন ঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন সংযোগ সড়ক, বনায়ন করার কাজ চলছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ভূমিহীনদের মাঝে জমি আর ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধ দখলদাররা এসব পরিবারদের পূনরায় উচ্ছেদ করে জমি দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

সদর উপজেলার হাড়দ্দহা গ্রামের ফাহিমা খাতুন জানান, তিনি ছেলেমেয়েদের নিয়ে ভোমরায় একটি কবরস্থানের পাশে থাকতেন। কখনও ভাবিনি পাকা ঘর ও জমির মালিক হবে। কিন্তু শেখ হাসিনা তার আশা পূরন করেছে। তিনি শেখ হাসিনার মঙ্গল কামনায় দোয়া করছেন।

ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা এলাকার সাদ্দাম হোসেন জানান, বেড়িবাঁধের উপর দিন কাটিয়েছেন। ঝড়বৃষ্টি এলে বাঁধে ভাঙন দেখা দিতো। সেখানে টিকে থাকতে পারতেন না। এখন তো সেই সমস্যা আর নেই।

রহিমা খাতুন জানান, তিনি নতুন ঘরের বাসিন্দা। আগে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সেখানে টাকা দিতে না পারায় কত গালমন্দ শুনেছেন। তার প্রতিবন্ধী স্বামী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে সেলাইয়ের কাজ করেন। এখন বাড়ি পেয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী খুশী হয়েছেন তিনি।

সুফিয়া খাতুন জানান, সে গুচ্ছ গ্রামে বাপের বাড়ি থাকতো। সেখানে অনেক কষ্ট পেয়েছে। এখন ঘর পেয়ে তার আর কোন কষ্ট নেই। নিজ ঘরে থেকে শ্রম দিয়ে বেঁচে থাকবার পথ খুঁজে পেয়েছেন।

তলুই গাছা এলাকার ইসমাইল হোসেন, হাড়দ্দহার ফরিদা ও ঘাভার সম্ভু দাস জানান, ঘর পেয়েছেন, বৈদ্যুতিক সংযোগও পেয়েছেন। সংযোগ রাস্তা হয়েছে। গভীর নলকূপ বসিয়ে দিয়েছে। তারা এখন বড় লোক।

এদিকে ঘর আর জমির মালিকরা জানান, পূর্বে যারা এই জমি ভোগ দখল করতো তারা পুনরায় জমির দখল নিয়ে চায়। এজন্য বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ঘরের দেওয়াল পর্যন্ত দখল করে ফসল আবাদ করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ঘর পাওয়া মানুষ গুলো প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

ভোমরা ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদ পানির জন্য দুটি গভীর নলকূপ বসিয়ে দিয়েছি। পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, পরম যত্ন সহকারে ঘরগুলো তৈরী করে দিয়েছেন। এখন সংযোগ সড়ক, বনায়ন সহ বিভিন্ন কাজে হাত দিয়েছেন। ৪শত ঘরের মধ্যে ৩৬০টির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। আরও ৪০টি ঘরের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে।

শেয়ার