ফলোআপ: গৃহকর্মীর ঘর উচ্ছেদ ॥ শ্যামনগর ইউএনও’র বিরুদ্ধে মুখ খুলে হুমকিতে বিধবা রোকেয়া

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ দরিদ্র ভূমিহীন রোকেয়া খাতুনের ৯ বছরের বসবাসের ঘর ভেঙে দেওয়ার পর শ্যামনগরের ইসমাইলপুরের ভূমিহীন জনপদে উচ্ছেদ আতংক বিরাজ করছে। যেকোন মুহূর্তে তাদের বসতবাড়ি ভেঙে দেয়া হতে পারে এই আশংকায় দিন পার করছেন কিছু ভূমিহীন পরিবার। অপরদিকে ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়ার পর রোকেয়া খাতুন ইউএনও’র বিরুদ্ধে মুখ খোলায় এক ভূমি অফিসার মামলা দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়েও ভূমিহীনদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ।

সোমবার সরেজমিনে শ্যামনগরের ইসমাইলপুরে যেয়ে ভূমিহীন জনপদে থমথমে ভাব লক্ষ্য করা গেছে। সবাই রয়েছেন উচ্ছেদ আতঙ্কে। যেকোন মুহূর্তে তাদের খুপড়ি ঘরগুলো ভেঙে দিতে পারে-এমন শঙ্কায় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের ইসমাইলপুর গ্রামে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘদিন যাবত সরকারের খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন। তারা ওই জমি বরাদ্দ পেতে সরকারের কাছে আবেদনও করেছেন।

এদিকে রোববার সকালে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেবাশীষ মুখার্জি ১০-১২ জন লোক নিয়ে ইসমাইলপুরে সাবুর আলীর বিধবা স্ত্রী রোকেয়া খাতুনের ঘরটি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। তিনি বারবার অনুরোধ করেও তার ঘরটি রক্ষা করতে পারেননি। এই ঘরে তিনি ৯ বছর যাবত বসবাস করে আসছিলেন। তবে রোকেয়াকে উচ্ছেদের ঘটনায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, তাকে বসবাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি সরকারের খাস জমির একাংশ দখল করে থাকায় সেখানকার ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। খাসজমি উদ্ধারে চলমান প্রক্রিয়া হিসাবে পর্যায়ক্রমে আরও ঘর প্রয়োজনে উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে রোকেয়া খাতুন তাকে উচ্ছেদ করার ঘটনাকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যক্তিগত আক্রোশ হিাসাবে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হওয়া ইউএনওকে তার গৃহকর্মী হিসাবে সেবা দিতে রাজী না হওয়ায় অন্য কারো ঘর না ভেঙে কেবলমাত্র তার ঘরটিই চুরমার করে দেয়া হয়েছে।
ভূমিহীন পল্লীর সদস্য মোঃ নূর ইসলাম, মোঃ শামসুর রহমান, ফরিদা খাতুন ও নজরুল ইসলামসহ অন্যরা জানান, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। তারা আরও দাবি করেন, আমাদের কাছে একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা টাকা দাবি করে আসছিলেন। আমরা তা দিতে সম্মত না হওয়ায় উচ্ছেদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

এদিকে ঘর থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর রোকেয়া খাতুন ইউএনও এবং ভূমি অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলায় একজন উপসহকারী ভূমি অফিসার তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তুমি বাড়াবাড়ি করলে ইউএনও সাহেব তোমার বিরুদ্ধে মামলা দেবেন। তোমাকে জেল খাটতে হবে। সাংবাদিকদের তুমি এসব কথা জানিয়েছো কেন, বলে কৈফিয়ত তলব করেন তিনি।

জানতে চাইলে উপসহকারী ভূমি অফিসার (বর্তমানে বরখাস্ত) দেবাশীষ মুখার্জী জানান, তিনি কারোর কাছে টাকা দাবি করেননি। এমনকি রোকেয়া খাতুনকে মামলার ভয়ও দেখাননি। বর্তমানে তিনি শ্যামনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ডেপুটেশনে থেকে কিছু দায়িত্ব পালন করেন মাত্র।

শেয়ার