বেনাপোল হয়ে ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ সিরাজগঞ্জে

 ঢাকার পথে ভারত থেকে আসা ২০০ টন অক্সিজেন

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারত থেকে আসা ২০০ টন তরল অক্সিজেন নিয়ে ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর খালাস করে তা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে । রোববার (২৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথম ট্যাংকলরিটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে বাকী ট্যাংকলরিগুলো পর্যায়ক্রমে লোড নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লিন্ডের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক সুফিয়া আক্তার ওহাব। এর আগে শনিবার রাতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এর আগে শনিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় ভারতের ঝাড়খন্ড প্রদেশের জামশেদপুর টাটানগর থেকে ১০টি কনটেইনারে তরল অক্সিজেন নিয়ে ছেড়ে আসে ইন্দো-বাংলা ট্রেন ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’। রোববার (২৫ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ অক্সিজেন নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম স্টেশনে প্রবেশ করে ট্রেনটি।
লিন্ডে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক সুফিয়া আক্তার ওহাব বলেন, ২০০ টন অক্সিজেন নিয়ে ভালোভাবে এ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি। এতো অল্প সময়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা পাবো ভাবতে পারিনি। এছাড়া লিন্ডে চেষ্টা করছে করোনাকালীন অক্সিজেনের যে চাহিদা বেড়েছে তা যতটুকু সম্ভব জোগান দিতে।

লিন্ডের গ্যাস বিভাগের বিক্রয় ও বিপণন শাখার মহাব্যবস্থাপক নুরুর রহমান জানান, মোট ১০টি ট্যাংকলরিতে ২০০ টন তরল অক্সিজেন লোড হয়ে ঢাকা যাবে। প্রতিটি ট্যাংকলরি লোড হতে সময় লাগার কথা ২ ঘণ্টা। চাপ কম থাকায় প্রায় ৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগছে। যেহেতু দুটির বেশি একসঙ্গে লোড করা যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অক্সিজেন আনলোড করতে অন্তত ২০ ঘণ্টা লাগবে।

লিন্ডের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগের কান্ট্রি ব্যবস্থাপক রাজিব দেবনাথ বলেন, স্টেশনের সামনের দিকে জায়গা কম থাকায় আমরা একসঙ্গে দুটির বেশি ট্যাংকলরি লোড করতে পারছি না। ১০টি ট্যাংকলরি লোড করতে অনেক সময় লাগবে। যদি অক্সিজেনবাহী ট্রেনের বাল্ব বক্স (অক্সিজেন আনলোড মেশিন) স্টেশনের সামনে না হয়ে উল্টো দিকে থাকতো তাহলে একসঙ্গে সবগুলোই লোড করা সম্ভব হতো।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রামপদ রায় বলেন, এটি আমাদের করোনাকালীন চিকিৎসাসেবায় অক্সিজেনের যে সঙ্কট তা অনেকাংশেই লাঘব করবে। এবার আসা মাত্র শুরু হলো। এখন পর্যায়ক্রমে অক্সিজেন ভারত থেকে আসতেই থাকবে। এছাড়া এখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পরে সারাদেশের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ এগুলো বণ্টন করবে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, করোনার এ ক্রান্তিলগ্নে ২০০ টন অক্সিজেন দেশে আসা আমাদের অনেক বড় অর্জন। ট্রেনযোগে ভারত থেকে আসা অক্সিজেন সিরাজগঞ্জে খালাস হলো। এখান থেকে আবার লোড করে ট্যাংকারে ঢাকায় যাবে। পরে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখবো, এটি সরাসরি ঢাকায় নেয়া যায় কি-না। তাহলে সময় বাঁচবে।

এর আগে ভারত থেকে আমদানি করা এই তরল অক্সিজেন নিয়ে শনিবার রাতে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায় ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। সেখানে আমদানি সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।

শনিবার রাত ১০টা ১০মিনিটে ১০টি কনটেইনার নিয়ে ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ বেনাপোলে পৌঁছায় বলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানিয়েছেন। প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে এটাই ভারতীয় ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেসের’ প্রথম যাত্রা।

কাস্টমসের শুল্কায়ন কার্যক্রম শেষে এই অক্সিজেন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর মধ্য দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম রেলপথে অক্সিজেন আমদানি করা হল বলে জানিয়েছেন বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আজিজুর রহমান।

এ নিয়ে মাঝে সাময়িক বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে মেডিকেল অক্সিজেনের তৃতীয় চালান এল।

এর আগে ঈদের দিন বুধবার জরুরিভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে ১৮০ মেট্রিক টন মেডিকেল অক্সিজেনের একটি চালান। ওই দিন ভারতীয় অংশের পেট্রাপোল থেকে ১১টি ট্যাংকারে অক্সিজেনের চালানটি পাঠায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিলে দেশটি থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ ছিল।
এরপর সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সাময়িক বিরতির পর ৫ জুলাই আবার অক্সিজেনের একটি চালান আসার মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হয়।

‘অক্সিজেন এক্সপ্রেসে’ করে আসা ২০০ টন অক্সিজেনের চালান খালাসের বিষয়ে বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার আরও বলেন, “দ্রুততম সময়ে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চালানটি ছাড় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

“করোনাকালীন সময়ে অক্সিজেন আমদানি করা হলে তা সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে শুল্কায়ন কার্যক্রম শেষ করা হচ্ছে।”

ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের অধীনে চক্রধরপুর বিভাগের কাছে বাংলাদেশের বেনাপোলে ২০০ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন (এলএমও) পরিবহনের চাহিদা জানায় টাটা। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে কনটেইনারে ওই তরল মেডিকেল অক্সিজেন লোডিং সম্পন্ন হয়।“
বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “মেডিকেল অক্সিজেনের এই চালানের আমদানিকারক লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড এবং রপ্তানিকারক লিন্ডে ইন্ডিয়া লিমিটেড।

পণ্য চালানটি ছাড় করায় বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘সারথী এন্টারপ্রাইজ’।
ভারত বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাসের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, “উভয় দেশের মধ্যে চমৎকার সুসম্পর্ক রয়েছে। একে অপরকে সহযোগিতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। তাই ভারতীয় রেলওয়ের ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বেনাপোলে আসায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।“
এর আগে ২০০ টন চালানের বিষয়ে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৯টা ২৫মিনিটে কনটেইনারে ওই তরল মেডিকেল অক্সিজেন লোডিং সম্পন্ন হয়।
“এই অক্সিজেন বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তা দেশটির চলমান কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা হবে।“

২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতে এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়। এই পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরে এই ধরনের ৪৮০টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস চলাচল করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ভারত তার মহামারী পরিস্থিতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ ভাগ করে নেওয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

শেয়ার