আরও ২০০ টন অক্সিজেন আসছে ভারত থেকে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতীয় রেলওয়ের অক্সিজেন এক্সপ্রেসে করে ২০০ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন আসছে বাংলাদেশে।

শনিবার ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এত দিন দেশের অভ্যন্তরে অক্সিজেন পরিবহন করলেও এবার প্রথমবারের মত তা প্রতিবেশী দেশে পরিবহন করা হচ্ছে।

শনিবার বিকালে অক্সিজেন এক্সপ্রেস ১০টি কন্টেইনারে ২০০ টন অক্সিজেন নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা করে।

এর আগে ঈদের দিন বুধবার জরুরিভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে ১৮০ মেট্রিক টন মেডিকেল অক্সিজেনের একটি চালান।

ওই দিন ভারতীয় অংশের পেট্রাপোল থেকে ১১টি ট্যাংকারে অক্সিজেনের চালানটি পাঠায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিলে দেশটি থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ ছিল।

এরপর সেখানে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সাময়িক বিরতির পর ৫ জুলাই আবার অক্সিজেনের একটি চালান আসার মাধ্যমে সরবরাহ শুরু হয়।

সর্বশেষ ২০০ টন চালানের বিষয়ে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের অধীনে চক্রধরপুর বিভাগের কাছে বাংলাদেশের বেনাপোলে ২০০ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন পরিবহনের চাহিদা জানায় টাটা।

এরপর সকাল ৯টা ২৫মিনিটে কনটেইনারে ওই তরল মেডিকেল অক্সিজেন লোডিং সম্পন্ন হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “এই অক্সিজেন বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তা দেশটির চলমান কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করা হবে।“

২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল ভারতে এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়। এই পর্যন্ত দেশটির অভ্যন্তরে এই ধরনের ৪৮০টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস চলাচল করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ভারত তার মহামারী পরিস্থিতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ ভাগ করে নেওয়ায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ড্রোন ব্যবহার করে এবার কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামালো দুবাই

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রতিদিনই দুবাইয়ের তাপমাত্রা পার করছিল ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির। এটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিজ্ঞানীরা। নতুন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি নামান তারা।

ড্রোন থেকে কৃত্রিমভাবে বৈদ্যুতিক চার্জ ব্যবহার করে আবহাওয়াকে পাল্টে দেন তারা। ফলে মরুর দেশটিতে দেখা মেলে বৃষ্টির। বলা চলে, জোর করেই বৃষ্টি নামিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বৃষ্টিপাতের অফিশিয়াল ভিডিও প্রকাশ করেছেন দুবাইয়ের আবহাওয়া কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞানীরা নতুন যে প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বৃষ্টি নামিয়েছেন, সেটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে গোটা বিশ্বের জন্য। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন বলছে, আগের প্রক্রিয়াগুলোর মতো পরিবেশের উপর বেশি প্রভাব না ফেলেই অনাবৃষ্টি কমাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে নতুন প্রক্রিয়াটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি বছর প্রায় চার ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। সরকার আশা করছে, মেঘে বিদ্যুত চার্জ ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টি তৈরি করলে তা বছরে কিছু তাপদাহ কমাতে ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের গবেষকদের তথ্য অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিজ্ঞানীরা ড্রোন ব্যবহার করে ঝড় তৈরি করেছেন প্রথমে, যা বিদ্যুতের মাধ্যমে মেঘে আঘাত হানে, এতে শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। বলে রাখা ভালো, গরম প্রধান দেশে হালকা বৃষ্টিপাতে বৃষ্টির ফোঁটা অনেক সময় মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্প হয়ে যায়।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত মানসুর আবুলহোল মে মাসে ইউনিভার্সিটি অফ রিডিং সফরকালে বলেন, “ভেবে ভালো লাগছে, যে বৃষ্টিপাত প্রযুক্তি আজ আমি দেখেছি, তা এখনও তৈরি হচ্ছে, হয়তো কোনোদিন এটি দেশগুলোকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো জল দুর্লভ পরিবেশে সমর্থন করবে।” ওই সময় নতুন প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে তা দেখানো হয়েছিল তাকে।

অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট ব্যান ডে নুর্ট বলেন, “অবশ্যই আমাদের আবহাওয়াকে বদলে দেওয়ার সক্ষমতা প্রাকৃতিক শক্তির তুলনায় নগন্য। বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবগুলো সম্পর্কে বোঝা এবং তা ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যে আমাদের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে, সে ব্যাপারে আমরা সচেতন।”

শেয়ার