যশোরে চাঁদা দাবিতে হোটেল মালিকের বাড়িতে তালা দেয় হিটার নয়ন বাহিনী

 পুলিশ তালা খুলে দিলেও জড়িতদের কিছুই বলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চার লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিটার নয়নের নেতৃত্বে হোটেল ব্যবসায়ী শুকুর আলী মোড়লের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ৬ ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে তালা খুলে দিলেও ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে জীবন ভয়ে ব্যবসায়ী হোটেল বন্ধ করে বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। এই ঘটনায় হিটার নয়নসহ ৮জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনের বিরুদ্ধে শুকুর আলী কোতোয়ালি মডেল থানায় ওই দিনই অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলো, শংকরপুর ইসহাক সড়কের ফারুক হোসেনের ছেলে পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেদ হোসেন নয়ন, জলিল মিস্ত্রির ছেলে তুহিন, সফিয়ারের ছেলে শাওন, আতিয়ার রহমানের ছেলে বনি, গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত হাজারী মোড়লের ছেলে নুরুল মোড়ল নুনু, মৃত ধনু মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম, সোহেলের স্ত্রী সম্পা বেগম বুচি ও নুরুল মোড়ল নুনুর ছেলে বাবু।

বাদী শুকুর আলী মোড়ল শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়ক গোলপাতা মসজিদ এলাকার করিম মোড়লের ছেলে। বাদীর অভিযোগ, তিনি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। দু’টি কিডনি তার বিকল । শংকরপুর মুরগি ফার্মগেটে একটি খাবারের হোটেলের ব্যবসা করেন শুকুর আলী। বাদীর দাদি জীবিত থাকাকালীন তার নামে ২০০৭ সালে ৮২ নম্বর শংকরপুর মৌজায় ১৮৬ খতিয়ানের ৪৯৪ নম্বর দাগে আড়াই শতক জমি হেবা দলিল মূলে দান করেন। এরপর থেকে সেই জমিতে শুকুর আলী মোড়ল বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু আসামিরা জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এমনকি তাকে খুন করার হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কয়েকবার সালিশ বিচার করে একটি সমাধান করা হয়। এরপর শুকুর আলীর দু’টি কিডনি বিকল হওয়ায় জমিটি বিক্রি করে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু জমিটি বিক্রি করার পর থেকেই সন্ত্রাসী হিটার নয়নের নেতৃত্বে আসামিরা শুকুর আলীর কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে হিটার নয়নের নেতৃত্বে সকল আসামি শুকুর আলীর বাড়িতে এসে জমি বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা চাঁদা স্বরূপ দাবি করে। আর তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘরের বাইরে থেকে আসামিদের অনেক অনুনয় বিনয় করার পরও তারা তালা খুলে দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে স্ত্রী সন্তানসহ শুকুর আলী কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেন। থানা পুলিশের একজন অফিসার তাদের সাথে করে নিয়ে ঘরের তালা খুলে দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের হুমকিতে শুকুর আলী হোটেলটি বন্ধ করে এখন বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।

কিন্তু ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় জীবনাশঙ্কায় শুকুর আলী ও তার পরিবার।
এই ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম বলেছেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

শেয়ার