ব্যাটিংয়ে উন্নতি ও ১০ পয়েন্টে নজর বাংলাদেশের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ “এই ১০ পয়েন্ট অনেক কষ্ট দিতে পারে,” শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডেতে হারের পর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। শুধু সিরিজ জেতাই এখন যথেষ্ট নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট না পাওয়াও হতাশার। যেমন, এবারের জিম্বাবুয়ে সফর। ওয়ানডে সিরিজে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য পূরণে ব্যাটিংয়ে উন্নতিতে চোখ রেখে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমনিতে ইদানিং লড়াই হয়ে গেছে একপেশে। বাংলাদেশ জিতেছে সবশেষ ১৮ ম্যাচে। এক সময়ের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে জিতেছে টানা পাঁচ সিরিজ। এবার দলটিকে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি সাকিব আল হাসান-মাহমুদউল্লাহদের সামনে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মঙ্গলবার এই অভিযানে নামবেন তারা। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরেকটি অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। আরেকটি জয় পেলে পূরণ হবে জয়ের পঞ্চাশ। দুই দলের এখন পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ৭৭ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৪৯টি, হার ২৮টি।

আরেকটি জয় দলকে নিয়ে যাবে মাইলফলকে। একই সঙ্গে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে বাংলাদেশ পাবে আরও ১০ পয়েন্ট। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথে এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ।

সুপার লিগে বাংলাদেশের সামনে আছে আরও চারটি সিরিজ। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আর দুটি সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকা ও আয়ারল্যান্ডে। কঠিন সেই সব চ্যালেঞ্জের আগে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের যতটা সম্ভব এগিয়ে রাখাটাই আসল কথা।

সে কারণেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতার পরও ১০ পয়েন্ট নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিল অধিনায়কের কণ্ঠে। সুপার লিগের গুরুত্ব বুঝে চোট নিয়েই খেলে যাচ্ছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান দলকে টেনেছেন দুই ম্যাচে। কিন্তু শুরুতে জুটি গড়তে পারছে না বাংলাদেশ। এটা শুধু এই সিরিজের সমস্যা নয়, সবশেষ ৬ ম্যাচেই বাংলাদেশ একশর আগে হারিয়েছে চার উইকেট।

এক ম্যাচে লিটন দাস আরেক ম্যাচে সাকিব পরের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে উদ্ধার করেছেন দলকে। কিন্তু ব্যাটিং দলের দুর্ভাবনাই হয়ে থেকেছে। প্রথম ম্যাচে কন্ডিশন বেশ কঠিন ছিল, জিম্বাবুয়ের পেসাররা বেশ সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু পরের ম্যাচে উইকেট ততটা কঠিন ছিল না, তবুও একের পর এক আলগা শটে বিপদ ডেকে আনে ব্যাটসম্যানরা।

৩০ পয়েন্টের লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের দুর্ভাবনা এখন কেবল এই জায়গা নিয়েই। সাকিব প্রথম ম্যাচে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট, শরিফুল ইসলাম পরেরটিতে নিয়েছেন চার উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানের অভাব বুঝতেই দেননি তারা। শেষ ম্যাচে বাঁহাতি এই পেসার খেলতে পারলে বোলিংয়ে শক্তি আরও বাড়বে সফরকারীদের।

২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকা দলের লক্ষ্য একটাই। সেটা মুখ ফুটে বলারও দরকার পড়ে না। তবে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন জানালেন, কেবল হোয়াইটওয়াশ নিয়েই ভাবছেন তারা।

“জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। ওরা ঘরের মাটিতে দুর্দান্ত। এজন্য আমরা বেশি মনোযোগ দিয়ে খেলছি। হয়তো অনেক সময় কষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফল আনা, তারপরও আমরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করছি। যেহেতু একটি ম্যাচ বাকি আছে। হোয়াইটওয়াশ করা আমাদের লক্ষ্য থাকবে। আমরা আমাদের প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পারলে ৩-০তে জিতব আশা রাখি।”

অন্তত ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ তাকিয়ে ১৪তম হোয়াইটওয়াশের দিকে। এর আগে কেনিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করা দলটি এই তালিকায় আরেকটি নাম যুক্ত করতে মুখিয়ে।

দুই ম্যাচেই একটা পর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থায় ছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু স্নায়ু চাপ সামলাতে পারেনি তারা। হয়তো মনের জোরও বাংলাদেশের বেশি ছিল। সাইফ জানালেন, সুপার লিগের গুরুত্ব মাথায় রেখেই প্রতিটা ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন তারা। ছোটখাটো চোট পাত্তা পাচ্ছে না তাদের কাছে।

“এখানে প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেমন দেখছি, তামিম ভাই কিছুটা চোট নিয়েও খেলছে। কারণ, সুপার লিগের পয়েন্টের বিষয় আছে। আমাদের প্রতিটি ক্রিকেটারই এটা মাথায় নিয়ে খেলছে।”

 

শেয়ার