বাঘারপাড়ায় নারী নকল নবিসকে নির্যাতনের অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় নারী নকল নবিসকে শারীরিক নির্যাতন ও নগ্ন ছবি ইমোতে দেখানো এবং ব্যক্তি আক্রোশে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই নারী যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই মামলা করেন। ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক মামলাটি আগামী ২ আগস্ট আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন।

বাদী মামলায় বলেছেন, ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে তিনি বাঘারপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে নকল নবিস পদে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি বাদীকে বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এমন কি সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সির ভাড়া বাসায় দেখা করতে বলা হয়। কিন্তু কোন মতেই রিপন মুন্সির কথায় রাজি হননি বাদী। এরই মধ্যে কোন একদিন বালাম বইতে স্বাক্ষর করানোর জন্য রিপন মুন্সির কক্ষে প্রবেশ করার সাথে সাথেই বাদীকে জড়িয়ে ধরে যৌন নির্যাতন করে। মানসম্মানের ভয়ে বাদী শুধু কান্নকাটি করেন। গভীর রাতে রিপন মুন্সির ব্যবহৃত মোবাইল ০১৩১০-৪৮৯৫৫৮ নম্বরের ইমো থেকে বিভিন্ন ধরনের নগ্ন ছবি দেখানো হয়। এরপরও বাদীকে রাজি করাতে না পেরে অফিসিয়ালি কোন কাজ বাদীকে দেননা ওই সাব- রেজিস্ট্রার। বিষয়টি বাদী অফিসের বড় বাবু, নকল নবিস এবং দলিল লেখক সমিতির সভাপতিকে অবহিত করেন। সর্বশেষ গত ৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অফিসের ওমেদার মনিরুজ্জামান জনিকে দিয়ে আসামির কক্ষে বাদীকে ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পরে বাদীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ইজ্জত রক্ষায় বাদী দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অফিসের অনেকেই দেখেও চাকরি হারানোর ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। এরপর ২০ জুন বাদীকে মৌখিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন আসামি। এপর্যন্ত বাদীকে আর অফিসের কোন কাজ দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বাঘারপাড়া থানায় গেলে মামলা নিতে অস্বীকার করে আদালতে মামলার করার পরামর্শ দেয়া হয়। গতকাল সোমবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

শেয়ার