ফেসবুকে প্রেম, প্রতারণার শিকার রেফ্রিজারেটর টেকনিশিয়ান

 মারপিট করে ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ফেসবুকে প্রেম করে এক নারীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন শাকিল আহম্মেদ নামে এক রেফ্রিজারেটর টেকনিশিয়ান। এরপর তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবিতে মারপিট, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসেট ও টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর বাজারে এই ঘটনাকালে মারুফ হোসেন নামে একজনকে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শাকিল আহম্মেদ বাদী হয়ে আটক শাকিলসহ ৭জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। আটক মারুফ হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

এই মামলার অপর আসামিরা হলো, সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের চান্দী আলী বিশ্বাসের ছেলে সোহাগ বিশ্বাস, দুলাল মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কহিনুর মিয়ার ছেলে সুজন মন্ডল, যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে মেম্বরের বাড়ির চান্দালীর মেয়ে সুমি খাতুন ও বেনাপোল পোর্ট থানার মানিকদিয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জিয়াউর রহমানের মেয়ে সোনালী।

বাদী শাকিল আহম্মেদ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোল্যাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি পেশায় এজন রেফ্রিজারেটর মিস্ত্রি।

তিনি মামলায় উল্লেখ করেছেন, কালীগঞ্জ উপজেলার শাকো বাজারে তার একটি দোকান আছে। আসামি সুমি খাতুনের সাথে তার ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায় গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাকিলকে হাসিমপুর বাজারে দেখা করতে বলে সুমি খাতুন। শাকিল সেখানে আসার পরে কয়েকজনে কথা বলার এক পর্যায় তাকে রাত ৯টার দিকে রামকৃষ্ণপুর গ্রামে আসামি মামুন মোল্যার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পরে আরো কয়েক আসামির সাথে দেখা হয়। এসময় শাকিলের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারপিট শুরু করে। তার কাছে থাকা একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনসেট, একটি সিম্ফনি মোবাইল ফোন এবং আড়াই হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে নেয়। শাকিলের কাছ থেকে চাঁদা স্বরুপ আরো এক লাখ টাকা জন্য তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসামি সোহাগের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমেধ্য হাশিমপুর বাজারে গেলে অনেক লোকজন দেখে শাকিল চিৎকার করে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল থেকে নেমে পড়ার চেষ্টা করলে সবাই পড়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন এসে বিষয়টি শুনে আসামি মারুফকে গণধোলাই দিয়ে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মারুফকে হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার মামলায় সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেয়ার