চেনা সাকিবে স্বস্তি, উচ্ছ্বাস

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ব্যাট হাতে বড্ড অচেনা লাগছিল সাকিব আল হাসানকে। নির্ভরযোগ্য ব্যাটিংয়ে যিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দিতেন, সেই সাকিবই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন এতদিন! অবশেষে চেনা রূপেই ফিরলেন হারারেতে। যার ব্যাট-বলের পারফরম্যান্সে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।

২০১৯ বিশ্বকাপে ৬০৬ রান ও ১১ উইকেটে নিয়ে অতিমানবীয় পারফর্ম করেছিলেন সাকিব। সেই শেষ! ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করে নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ছিল সাকিবের প্রত্যবর্তন ম্যাচ। এর পর থেকে প্রতিটি টুর্নামেন্ট ও সিরিজ গেলেও চেনা রূপে আর তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে হারারেতে দলের বিপদের দিনে ৯৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেই ফর্মে ফেরার বার্তা দিলেন।

এর আগে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। প্রত্যাবর্তন সিরিজে দুটি ওয়ানডেতে কিছু রান করলেও ঠিক চেনা ফর্মে পাওয়া যায়নি। তার পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজেও রান খড়ায় ভুগেছেন। যেটি অব্যাহত ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ঢাকা লিগেও! এমনকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টর পর প্রথম ওয়ানডেতেও একই অবস্থা হয়েছিল তার।
ক্রিকেটাঙ্গন জুড়ে তাই সবার মুখে মুখে ফিরছিল, কবে সেরা ছন্দে ফিরবেন তাদের প্রিয় সাকিব?
অথচ বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের জার্সিতে খেলা সাকিব বলেছিলেন, ‘দেখি কত দ্রুত কামব্যাক করা যায়। চেষ্টা থাকবে যেন ভালো করতে পারি। বাকিটা দেখা যাক।’
স্থানীয় কোচ ও সাকিবের সতীর্থরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, ছন্দে ফিরতে সময় লাগবে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের। নিষেধাজ্ঞার কারণে এক বছর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন তিনি। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম বলেছিলেন, সাকিব যে কোনও পরিস্থিতিতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

তামিমের কথা মতোই উইকেটে পেলেন, রানও করলেন সাকিব। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলীয় ৩৯ রানে তামিমের বিদায়ের পর মাঠে নেমেছিলেন। একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজের সহজাত ব্যাটিংটা করে গেছেন। অপরপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আশা যাওয়ার মিছিলে মাহমুদউল্লাহর সাথে ৫৫, আফিফের সঙ্গে ২৮ এবং সাইফউদ্দিনের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথেই রাখেন সাকিব। আর তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলে ১২ রান। সেই রান ৫ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
এর পেছনে যে সাকিবের বড় কৃতিত্ব তাতে সন্দেহ নেই। ঠা-া মাথায় সাকিব ধীরে ধীরে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। ১০৯ বলে ৮ চারে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। এর আগে বোলিংয়েও নেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। সবমিলিয়ে অলরাউন্ডস পারফরম্যান্সে সাকিব সেরা একটি দিন পার করেছেন। যার অপেক্ষায় ছিলেন সাকিব প্রেমীরা।

শেয়ার