কোরবানি ঈদ ঘিরে মহাব্যস্ত কামারবাড়ি

ইমরান হোসেন পিংকু
জলন্ত কয়লার আগুন উস্কে দিতে বারবার টান পড়ছে হাপরে। গণগণে সেই আগুনে পুড়ছে লোহা। টকটকে লাল হয়ে ওঠা লোহার হাতুড়ি পেটায় তৈরি হচ্ছে ছুরি, চাকু ও চাপাতি। এগুলোর পাশাপাশি চলছে ফরমায়েশ অনুযায়ী মাংস কাটার অন্যান্য সরঞ্জাম বানানোর কর্মযজ্ঞও। ঈদ ঘিরে মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে যশোরের কামারবাড়ি।

তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার গবাদি পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির ফরমায়েশ কম। বিক্রিবাট্টাও ভালো না। তাই দিনমান কঠোর পরিশ্রম করলেও কামারদের মুখে হাসি নেই। উচ্ছ্বাস নেই কামারশালায়ও। তারপরও হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে যশোরে কামারবাড়িগুলো মুখরিত। আর ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে তাদের এই কর্মব্যস্ততা।

যশোর শহরের পুলেরহাট, চাঁচড়া, শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গা ঘুরে দেখা গেছে, কয়লার আগুনে লোহা পুড়িয়ে হাতুড়ি পেটা করে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। তবে আগের দিনগুলোর মতন ব্যস্ততা নেই। কামাররা বলছেন, খদ্দেরও নেই, পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরির অর্ডারও পরিমাণে কম। খোলাডাঙ্গার মোমিন বিশ্বাস কর্মকার আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘খদ্দেরই নেই, তার আবার বেচাকেনা। দুইদিন পর ঈদ। অন্যবার এই সময়ে জমে ওঠে দা-বঁটির বাজার। অথচ এবার বিক্রিই নেই। ক্রেতারা আসছেই না। সারাদিনে দুই তিনটাও দা-বঁটি বিক্রি হয় না’।

পুলেরহাটের সুকুমার কামার বলেন, ‘পরপর দুই কোরবানি ঈদে কোনো বেচাবিক্রি নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। এদিকে করোনার কারণে মানুষের আয় কমেছে। অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন না। ফলে বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।’

কামারবাড়ি ঘুরে জানা যায়, লোহার মানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। রেলের স্প্রিং পাতির লোহার মান সবচেয়ে ভালো। এ লোহার এক কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৫৫০ টাকা। গাড়ির লোহার স্প্রিং পাতির তৈরি এক কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৪০০ টাকা। এছাড়া কাঁচা লোহা দিয়ে তৈরি এক কেজি ওজনের চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এর বাইরে ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে মাংস কাটার ছুরি পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে গরু ও ছাগল জবাইয়ের ছুরির দাম। এছাড়াও দা ও বঁটির দাম ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

শেয়ার