বিধ্বংসী লুইস আর গেইলের ইয়র্কারে উইন্ডিজের জয়

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ঝড়ো ব্যাটিং, কার্যকর বোলিং আর চোখধাঁধানো ফিল্ডিং, ক্যারিবিয়ান টি-টোয়েন্টির প্যাকেজ যেন দেখা গেল ম্যাচে। ৯ ছক্কায় এভিন লুইসের বিস্ফোরক ব্যাটিং গড়ে দিল বড় স্কোরের ভিত্তি। শেলডন কটরেল আর আন্দ্রে রাসেল সময়মতো এনে দিলেন উইকেট। চমক হয়ে এলেন ক্রিস গেইল। গতিময় অফ স্পিন আর ফুল লেংথ ডেলিভারিতে রাশ টানলেন রানের গতিতে। সব মিলিয়ে শেষটাও জয়ে রাঙাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ১৬ রানে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ক্যারিবিয়ানরা জিতে নিল ৪-১ ব্যবধানে।

সেন্ট লুসিয়ায় বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে করে ১৯৯ রান।

ওপেনার লুইস খেলেন ৩৪ বলে ৭৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

অস্ট্রেলিয়া রান তাড়ায় ১০ ওভার পর্যন্ত লড়াইয়ে থেকেও পরে পথ হারিয়ে যেতে পারে ১৮৩ পর্যন্ত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কটরেল ও রাসেল নেন তিনটি করে উইকেট।

উইকেট না পেলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান আটকে রেখে বড় ভূমিকা রাখেন গেইল। তার একের পর এক জোরের ওপর করা ইয়র্কারে রান নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়ানরা। ৩ ওভারে তিনি দেন কেবল ৯ রান।
ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ব্যাটিং স্বর্গে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জেসন বেহরেনডর্ফের করা প্রথম ওভারেই ছক্কায় লুইস ইঙ্গিত দেন, ঝড় আসছে!

সেই শুরু, বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান এরপর জোড়ায় জোড়ায় মারতে থাকেন ছক্কা। বেনরেনডর্ফের পরের দুই ওভারে দুটি করে, অ্যান্ড্রু টাইয়ের ওভারে দুটি, মিচেল সোয়েপসনের ওভারে দুটি!

আরেক ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ফেরেন ১৬ বলে ১২ করে। তিনে নেমে গেইল চেষ্টা করেন লুইসের সঙ্গে তাল মেলাতে। প্রথম পাঁচ বলেই তিনি অ্যাডাম জ্যাম্পাকে উড়িয়ে দেন দুটি করে চার ও ছক্কায়।

আরেক লেগ স্পিনার সোয়েপসন অবশ্য সেখানেই থামিয়ে দেন গেইলকে (৭ বলে ২১)। তবে ৯ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে ফেলে ১১৯ রান।

লুইসের সামনে তখন সেঞ্চুরির হাতছানি। কিন্তু পারেননি তা। মিচেল মার্শের স্লোয়ারে যখন তিনি ৭৯ রানে আউট হলেন, ওভার বাকি তখনও ৯টি।

পরের সময়টায় রানের গতিতে কিছুটা বাঁধ দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে দারুণ বোলিং করেন টাই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন বটে। তবে আন্দ্রে রাসেল, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ড্যারেন ব্রাভোরা পারেননি ঝড় তুলতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাই ছুঁতে পারেনি দুইশ।

রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওভারেই হারায় জশ ফিলিপিকে। তবে তিনে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মিচেল মার্শ। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও শুরু করেন ভালো।

রাসেলের দারুণ ফিরতি ক্যাচে মার্শ থামেন ১৫ বলে ৩০ করে। ৯ ওভারে তবু অস্ট্রেলিয়া তুলে ফেলে ৯৩ রান।

এরপরই অ্যালেনের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ। লেগ স্পিনার হেইডেন ওয়ালশের ফুল টস সোজা ব্যাটে চালিয়ে দেন ফিঞ্চ। ওয়াইড লং অন থেকে বাঁদিকে প্রায় ৩০ গজ ছুটে দুর্দান্ত ডাইভে এক হাতে বল হাতে জমান অ্যালেন। হতভম্ব ফিঞ্চ ফেরেন ২৩ বলে ৩৪ করে।

ওই ওভারেই পুরানের ক্ষীপ্রতা ও গুলির বেগের থ্রোয়ে রান আউট মোইজেস হেনরিকেস (১৪ বলে ২১)।

এরপর ওভারপ্রতি যখন লাগে দশের মতো রান, তিন ওভারে গেইল দেন কেবল তিন রান করে! মিডল ও লেগ-মিডল স্টাম্পে তার ইয়র্কারগুলোর জবাব পাননি অ্যালেক্স কেয়ারি, ম্যাথু ওয়েডরা।

১৮ বলে ২৬ করে ওয়েড আউট হন রাসেলের বল স্টাম্পে টেনে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে এ দিন গভীরতা তেমন ছিল না। ছয় নম্বরের পর ছিল না কোনো কার্যকর ব্যাটসম্যান। লোয়ার অর্ডারদের টুকটাক চার-ছক্কায় তবু তারা কমায় ব্যবধান।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের সেরা লুইস। শেষ ম্যাচে ভালো না করলেও সিরিজে ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরা লেগ স্পিনার ওয়ালশ।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি খেলেছে স্মিথ-ওয়ার্নার-ম্যাক্সওয়েল-স্টয়নিসদের ছাড়া। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও চোটের কারণে পায়নি অধিনায়ক কাইরান পোলার্ডকে। চোট বিশ্রাম মিলিয়ে সব ম্যাচে ছিলেন না লুইস, হোল্ডার, ডোয়াইন ব্রাভোরা। কৃতিত্ব তাদের তাই কম নয়।

দুই দল এখন খেলবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বারবাডোজে ম্যাচ তিনটি ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই।

শেয়ার