হাইতির অশান্তিতে ‘গ্যাং বসরা’, প্রকট হচ্ছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

সমাজের কথা ডেস্ক॥ হাইতির প্রভাবশালী একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী বা গ্যাংয়ের নেতা জিমি শেরিজিয়ার বলেছেন, তার অনুগতরা প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের হত্যাকা-ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে।

এমনটা ঘটলে তা দরিদ্র ও সহিংসতায় জর্জরিত ক্যারিবীয় দেশটির টালমাটাল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বারবিকিউ নামে বেশি পরিচিত, সাবেক পুলিশ সদস্য শেরিজিয়ার নয়টি গ্যাংয়ের ফেডারেশন জি-৯ এর প্রধান বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ গ্যাং নেতার অভিযোগ, হাইতির পুলিশ ও বিরোধী রাজনীতিকরা ‘নোংরা বুর্জোয়াদের’ সঙ্গে মিলে ময়িসকে ‘বলি’ দিয়েছে।

“এটা ছিল হাইতির জনগণের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। প্রেসিডেন্টের হত্যাকা-ের ওপর আলো ফেলতে আমরা আমাদের সব ঘাঁটিকে সক্রিয় হতে এবং রাস্তায় নামতে বলেছি,” শনিবার এক ভিডিও বার্তায় তাকে এমনটাই বলতে শোনা গেছে।

এসময় শেরিজিয়ারের পরনে ছিল খাকি পোশাক; তিনি হাইতির পতাকার সামনে বসে ভিডিওতে কথা বলছিলেন।

বুধবার ভোররাতে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বাসভবনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ময়িস। হাইতির কর্তৃপক্ষের দাবি, কলম্বিয়ার ২৬ জন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দুই জন হাইতিয়ানের সুপ্রশিক্ষিত একটি দল প্রেসিডেন্টকে হত্যা করেছে।

এই হত্যাকা- এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিয়ে অস্পষ্টতা অশান্ত ক্যারিবীয় দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকরা।

প্রেসিডেন্ট হত্যাকা-ের কয়েকদিনের মধ্যে হাইতির সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সামরিক সহায়তাও চেয়েছে।

শেরিজিয়ার বলেছেন, তার অনুগতরা ‘ন্যায়সঙ্গত সহিংসতার’ চর্চা করবে।

“এখনই সময় আমাদের মতো কৃষ্ণাঙ্গ, কোঁকড়া চুলের অধিকারীদের সুপারমার্কেটের মালিক হওয়ার, গাড়ির ডিলারশিপ নেওয়ার ও ব্যাংক করার,” হাইতির অর্থনীতির একাংশের নিয়ন্ত্রক সিরিয়া ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত ধনী ব্যবসায়ীদের দিকে ইঙ্গিত করে একথা বলেন এ ‘গ্যাং বস’।

ধনী ওই ব্যবসায়ীদের অনেকের সঙ্গেই ময়িসের বিরোধ ছিল।

শেরিজিয়ারের এ বক্তব্যের পর রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের নাগরিকদের মধ্যে ভয় বেড়েছে; সহিংসতায় জর্জরিত শহরটি এর আগেও সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুলিশ ও সংঘবদ্ধ বিভিন্ন গোষ্ঠী বা গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে সপ্তাহের পর সপ্তাহ তুমুল সংঘর্ষ দেখেছে।

রাজধানীর বাসিন্দা বেনয়েট জিন বলেন, “শহরের নিরাপত্তা দেখভালের সক্ষমতা তাদের (পুলিশ) সত্যিই নেই। এখানে খুব বেশি পুলিশও নেই।”

দুই কলম্বিয়ান নাগরিকের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ময়িস হত্যাকা- নিয়ে হাইতির সরকারের ভাষ্যকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

শনিবার ময়িসের স্ত্রী মার্টিন হাইতির গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ঠেকাতে ছায়াশত্রুরা ময়িসকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।

শেয়ার