যশোর পৌরসভার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার হালচাল দিনে জ্বলে সড়কবাতি!

 রাতে পৌর এলাকার অনেক সড়ক থাকে অন্ধকারে

জাহিদ হাসান
রাতে জ্বলে না যশোর শহরের অনেক স্ট্রিটল্যাম্পের আলো। আর মেয়াদোত্তীর্ণ সড়কবাতিগুলোর আলোও বেশ কমে গেছে। সেগুলো থেকে এখন আর ঠিকমত আলো ছড়ায় না। ফলে রাত হলে শহরের মূল সড়কের কোনো কোনোটি ডুবে যায় আঁধারে। অনেক পাড়া-মহল্লার রাস্তাও একই দশা। তাছাড়া কোনো কোনো সড়কে রাতের আলো জ্বলে দিনে! বন্ধ না করায় অনেক জায়গার রোড লাইট সারাদিন জ্বলে থাকে। পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগও সেটা স্বীকার করেছে।

শনিবার সকাল থেকে যশোর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শহরের দড়াটানায় ৪টি, সিভিল সার্জন অফিস গেট প্রাঙ্গণে ২টি, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে ৫টি, যশোর দুর্নীতি দমন কার্যালয় থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কে ১২টি, রাজ্জাক কলেজ গেট থেকে স্টেডিয়ামপাড়া সড়কের সব কয়েকটি স্ট্রিটল্যাম্পের আলো জ্বলছে। এছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন সড়কবাতি জ্বলে থাকে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাতে এসব এলাকার মেয়াদোত্তীর্ণ সড়কবাতিগুলোর আলোও বেশ কমে গেছে। স্ট্রিটল্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে যশোর পৌরসভার। কিন্তু জ্বলে থাকা এই বাতিগুলো বন্ধ করার বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন এ প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী পৌরসভার একটি যশোর পৌরসভা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৪ সালে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে স্ট্রিটল্যাম্প রয়েছে ৮ হাজার ৭শ’টি। তবে, পৌরসভার দাবি বর্তমানে শতকরা ৯০ ভাগ সড়কবাতিগুলো আলো দেয়। তার মধ্যে বেশির ভাগ স্ট্রিটল্যাম্পের বাতিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আলোও বেশ কমে গেছে। সেগুলো থেকে এখন আর ঠিকমত আলো ছড়ায় না অভিযোগ পৌরবাসীর। তাছাড়া যশোর পৌরসভা বর্তমানে ৯১ কোটি দেনার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ২৩ কোটি ১৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। অযথা বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য এ খাতে এমনটি হয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের।

যশোর শহরের দড়াটানায় একটি স্ট্রিটল্যাম্পের আলো জ্বলছিলো দুপুরে। এসময় তার নিচে ভ্রাম্যমাণ লটকন ফল বিক্রেতা শামসুর হোসেনকে আলো জ্বলে থাকা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও আলো সবসময় জ্বলে। একবার সুইচ চালু করে রেখেছে পৌরসভা সেটা বন্ধ করার নাম নেই। প্রতিদিন সকালে এসে দেখি আলো জ্বলে।
যশোরের আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজগেট প্রাঙ্গণে চটপটি বিক্রিতা জমশেদ জানান, পৌরসভার এই সড়কবাতিগুলো শুধু আজ না; অনেক দিন ধরেই দিনের বেলায়ও জ্বলে।

যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বাসার সামনে দুটি স্ট্রিটল্যাম্প নষ্ট রয়েছে। আরো একটি টিম টিম করে জ্বলছে। অভিযোগ দিয়েও মেরামত করে দেয়নি পৌরসভা। তাছাড়া পৌরসভা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পরিষ্কার ও সাপ্লাইয়ের পানিও ঠিকমতো পাওয়া যায় না অভিযোগ করেন তিনি।

দড়াটানা এলাকায় শফিকুল ইসলাম নামে এক স্কুল শিক্ষক বলেন, ভরদুপুরেও জ্বলছে সড়কবাতি। এমনিতেই দেশে বিদ্যুতের সংকট তার উপর দিনেও জ্বলছে সড়কবাতি। তাছাড়া শুনেছি পৌরসভা নাকি অনেক টাকা বিদ্যুৎ বিলসহ দেনা রয়েছে। আমরা কি করবো, শুধু দেখছি। বন্ধ করার দায়িত্ব যার সেতো আর বন্ধ করেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভা যে অব্যবস্থাপনায় চলছে এটারই প্রমাণ এটা। শহরের ময়লা আবর্জনাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। একটু বৃষ্টি হলেই পৌরসভার বিভিন্ন সড়কগুলোতে হাঁটুপানি জমে। নিচু এলাকার বাড়িঘরে তো পানি উঠে যায়। সেই পানি থাকে ৩-৪ দিন পর্যন্ত।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান পলাশের ব্যবহৃত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) সাইফুজ্জামান বলেন, দিনে অনেক বাতি জ্বলে একথা সঠিক। তারের ইমাজিং বিদ্যুতের কারণে এগুলো জ¦লে। এগুলো মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে। জানতে চাইলে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, স্ট্রিটল্যাম্পের বাতিগুলো দিনেও জ্বলে কি না জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

শেয়ার