যশোরে গত বছরের তুলনায় এবার টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ অর্ধেক

 ট্রাক আসলেই পণ্য ক্রয়ের জন্য দীর্ঘলাইনে ক্রেতারা
 দ্রুত বিক্রি হওয়ায় কিনতে না পেরে হতাশ অনেকে

সালমান হাসান রাজিব
লকডাউনে উপার্জন বিহীন দিনগুলোয় স্বস্তি দিচ্ছে টিসিবি’র পণ্য। যশোরের কোথাও টিসিবির ট্রাক আসলেই পণ্য কেনার ভিড় জমে যায়। লম্বালাইনে থেকে পণ্য কিনতে দীর্ঘসময় লাগলেও দাম সুলভ হওয়ায় ক্রেতারা খুশি। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পণ্য কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। কারণ যশোরে গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় টিসিবি পণ্যের বরাদ্দ অনেক কম।
জেলায় টিসিবি পণ্যের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। গত বছরের তুলনায় এবার সেটি অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে বরাদ্দ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা উচিত। তাহলে মানুষ উপকৃত হবে।
জানা গেছে, গত বছরের করোনার মধ্যে জেলায় ৮ থেকে ১০ ট্রাক টিসিবি পণ্যের সরবরাহ আসত। কিন্তু এবার সেটি কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে যশোরে দিনে মাত্র ৪ ট্রাক পণ্যের বরাদ্দ মিলছে। আবার এসব ট্রাকেও বরাদ্দকৃত পণ্যের পরিমাণ গেল বারের তুলনায় অনেকগুণ কম। গত বছর একেকটি ট্রাকে ২ হাজার লিটার পর্যন্ত সয়াবিন তেলের বরাদ্দ মিলত। আর একেকটি ট্রাকে চিনির বরাদ্দ থাকত দুই থেকে আড়াই হাজার কেজি। ডালের বরাদ্দ থাকত ১ হাজার ২শ’ কেজি পর্যন্ত। কিন্তু এবার ট্রাক প্রতি তেলের বরাদ্দ নেমে এসেছে এক হাজার লিটারে। আর চিনির বরাদ্দ মিলছে ৬শ’ কেজি ও ডালের ৪শ’ কেজি।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারের চেয়ে কম দামের এই পণ্য কিনতে পারলে তাদের অর্থের সাশ্রয় হবে। তবে পণ্য সরবরাহ কম হওয়ায় দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়ানোর পরও কিনতে পারছেন না অনেকে। বহুসময় অপেক্ষা করে পণ্য কিনতে না পেরে হতাশ হচ্ছেন। তাই টিসিবির পণ্য কিনতে আগ্রহীরা সংশ্লিষ্টদের কাছে আরো সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
ডিলাররা বলছেন, পণ্যের বরাদ্দ অনেক কম। যার কারণে ক্রেতা সামলানো দায়। অনেকে অপেক্ষার পরও পণ্য পাচ্ছেন না। চাহিদার অর্ধেক পণ্যও তারা পাচ্ছেন না। বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
যশোর সদরের পৌর এলাকার টিসিবি’র ডিলার লোকনাথ ভান্ডারের গৌরাঙ্গ পাল বাবু জানান, গত বছর তারা ট্রাক প্রতি যে পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছিলেন এবার সেই পরিমাণ পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি জানান, এবার ট্রাক প্রতি সয়াবিন তেলের বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার লিটার। ডালের বরাদ্দ ৪শ’ কেজি ও চিনির ৬শ’ কেজি। তিনি বলেন, কোনো পয়েন্টে এই পরিমাণ পণ্য নিয়ে অবস্থানের পর নিমিষেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমাণে পণ্যের চাহিদা অনেক। তাই বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
যশোরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুজাত হোসেন খান জানান, গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বরাদ্দ মিলছে। সেবার সারা জেলায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি হোত। কিন্তু এবার সেটি ৪টিতে নেমে এসেছে। আর এই পরিমাণ বরাদ্দ দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব না। এক্ষেত্রে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। তার মতে, যশোরের মতন একটি বৃহৎ জেলায় বর্তমান বরাদ্দ অনেক কম।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে যশোরে টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত এটি চলবে। প্রতিদিন ৪টি ট্রাকে যশোর সদরসহ তিনটি উপজেলায় প্রতিদিন চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার