করোনায় মারা যাওয়া শিক্ষক মদন দাসের সৎকার করলেন ১০ মুসলিম যুবক

রাসেল মাহমুদ, রূপদিয়া॥ কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ- নরক, মানুষেতেই সুরাসুর।’ অর্থবহ এই কথার বাস্তব প্রমাণ দিলেন যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামের ১০ যুবক।

জানাযায়, গত ৩ দিন ধরে মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মদন দাস (৭০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শনিবার রাত ১২ টার দিকে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিক্ষক মদন দাস। রাতেই মৃতদেহ মুনসেফপুর বারোইতলা এলাকার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে প্রতিবেশী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে ধারের কাছেও ভিড়েননি। পিতার সৎকাজ করা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন দুই ছেলে। করোনার এই মহামারিতে জাতগোত্র, ধর্ম বর্ণ কোন কিছুরই ভেদাভেদ না রেখে ছুটে গিয়ে শিক্ষক মদন দাসের সৎককারে ব্যবস্থা করেন ১০ মুসলিম যুবক।

এনিয়ে মৃত ব্যক্তির ছেলে বাপ্পি দাস বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ে আমাদের ধর্মের একজন ব্যক্তি, এমনকি নিকটজনেরাও খোঁজ নেয়নি এমনকি দেখতে পর্যন্ত আসেনি।
আমরা দুই ভাই কোন কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বাবার সৎকার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম।

কিন্তু কয়েক মুসলিম ভাইদের উপস্থিতি ও কাজকর্মে আমরা সকলে রীতিমত হতবাক হয়েছি। আমার পিতার সৎকারে এগিয়ে আশা মুসলিম ভাইয়ের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

এ ব্যাপারে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওই শিক্ষকের সৎকারে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম বাবলু বলেন- ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই চিন্তা-চেতনায় মূলত মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়া। আমাদের বড় পরিচয় আমরা প্রত্যেকেই মানুষ। যখন খবর পেলাম আমাদের এলাকার একজন স্কুল শিক্ষক করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেছেন এবং তার মরদেহের সৎকারে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন বিবেকের তাড়নায় আমার এগিয়ে গিয়েছি। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবো।

সৎকারে অংশগ্রহণ করেন সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন, সুমন হোসেন, ওলিয়ার রহমান, আলতাফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম, রইজ মুন্সি, আবুল কালাম, আরিফ খান ও আঃ হামিদ। এসময় মদন স্যারের দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। এরপূর্বেও এই এলাকার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যবসায়ী অলোক নামের এক যুবকের সৎকার করেছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

শেয়ার