যশোরে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরো ১২ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ৩০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ‘লকডাউন’ নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার রূপ আরও ভয়ংকর হতে পারে। গেল ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৪ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় জেলায় আক্রান্তের হার শতকরা ৪৮ দশমিক ১২ ভাগ। এ সময়ে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আটজন করোনায় ও চারজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এনিয়ে করোনায় জেলায় মোট ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন এসব তথ্য দিয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ফোকাল পারসন ডা. মো. রেহনেওয়াজ জানান, গেলে ২৪ ঘণ্টায় (অর্থাৎ সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) যশোরে ৬৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩০৪ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারের ল্যাবে ৫৫১ জনের মধ্যে ২২৮ জনের পজিটিভ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাবে সাত জনের নমুনা পরীক্ষা করে সবকয়টি নেগেটিভ এসেছে। এছাড়া আট জনের করোনার জিনএক্সপার্ট পরীক্ষা করে ছয় জনের ও ৭৪ জনের র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে পরীক্ষা করে ৭৪ জনের পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার শতকরা ৪৮ দশমিক ১২ভাগ। তিনি আরও জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলা ও শহরে ১৭৮ জন, কেশবপুর উপজেলায় রয়েছে ১১ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় রয়েছেন ৩০ জন, অভয়নগর উপজেলায় ১৮ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১৫ জন, বাঘারপাড়ায় সাতজন, শার্শা উপজেলায় ৩৬ জন এবং চৌগাছা উপজেলায় ১৩ জন। এছাড়া গত বছর করোনা শুরু থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট ১২ হাজার ৮৪জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এসময় সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৮৮৮জন এবং মারা গেছেন ১৪২ জন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ জানিয়েছেন, করোনা রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার মহসিন হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন (৬৫), ঝিকরগাছা উপজেলার মধুখালি গ্রামের বিশে মোল্লার মেয়ে মুসলিমা (৪০), শহরের পালবাড়ি এলাকার আব্দুল সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৬৫), শহরের কাজীপাড়া এলাকার আবু নাসিরের স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৭০), শহরের খড়কি এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে রবিউল ইসলাম (৬৫), কেশবপুর উপজেলার আবুল হোসেনের স্ত্রী রজিনা বেগম (৪০), সদর উপজেলার সানতলা এলাকার অরবিন্দ্র (৩৯) এবং সদরের ফারুক হোসেনের ছেলে আলিফ হোসেন (৬০)। এছাড়া হাসপাতালের ইয়লো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘যশোর জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে জেলায় করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। লকডাউন নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা আরও ভয়ংকর হতে পারে। তাই এখনই অধিব সতর্ক হতে হবে।

শেয়ার