চৌগাছার ব্যবসায়ীকে মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের চৌগাছার ব্যবসায়ী দিপু কাজীকে আটক রেখে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে মারপিট করে টাকা, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসেট ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় যশোর শহরের পালবাড়ি থেকে দিপুকে নিয়ে শেখহাটি এলাকায় আটক রাখার পরদিন সন্ধ্যায় বাহাদুরপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আটক দুইজনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন অপহৃত দিপুর ভাই মিঠু কাজী।

অপহৃত দিপু কাজী চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়ারপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান কাজীর ছেলে। এই ঘটনায় আটক দুইজন হলো, সদর উপজেলার জগমানপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে হাসানুর রহমান রহমীর ও উপশহর ই-ব্লকের শেখ শুকুর মাহমুদের ছেলে ইমরান হাসান ইমু।
এই মামলার পলাতক আসামিরা হলো, যশোর শহরতলীর বড় শেখহাটি বিশ্বাসপাড়ার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জুয়েল, শেখহাটির বিপ্লব, উপশহর ই-ব্লকের ভুলির ছেলে রনি, একই এলাকার মামুন ও সদর উপজেলার জগমানপুর গ্রামের ভুলির ছেলে জনি।

বাদী মিঠু কাজী মামলায় বলেছেন, তার ভাই দিপু কাজী চৌগাছা বাজারে কীটনাশকের ব্যবসা করেন। আটক হাসানুর রহমান রহমী মোবাইল ফোনে একটি কোম্পানির ডিলারশিপ করে দেয়ার কথা বলে। সে গত ২৭ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিপুর ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে যশোর শহরের উদ্দেশে আসেন। শহরের পালবাড়ি পৌছানো মাত্র হাসানুর রহমান রহমী তার সাথে দেখা করে। এরপর দিপুর মোটরসাইকেলের পিছনে হাসানুর রহমান রহমী উঠে শহরের বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরি করে। এক পর্যায়ে দিপুকে শেখহাটি বিশ্বাসপাড়ার জুয়েলের একটি ঘরে আটক রাখে। এরপর তাকে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অস্ত্র দেখিয়ে সারা রাত মারপিট করে। তাছাড়া দিপুর কাছ থেকে একশ’ টাকা মূল্যের ৬টি নন জুডিসিয়াল অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরদিন সকালে দিপুর মোবাইল ফোন দিয়ে তার ভাই মিঠুর মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে আসতে বলেন। এরই মধ্যে দিপুর ভাই চৌগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নির্দেশনা মতে অপহরণকারীদের টাকা দিতে রাজি হন মিঠু। টাকা দেয়ার জন্য অপহরণকারীদের বলা হলে তারা উপশহর এলাকায় যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পরে টাকা নেয়ার সময় ইমরান হোসেন ইমুকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর ইমুকে নিয়ে অপহৃত দিপুকে উদ্ধারের জন্য শেখহাটি জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে দিপুকে তারা সরিয়ে অন্য যায়গায় চলে যায়। পরে আবার খবর পেয়ে বাহাদুরপুর এলাকায় গেলে তাদের কাছ থেকে দিপুকে উদ্ধার এবং হাসানুর রহমান রহমীকে আটক করা হয়। একই সাথে অপহরণকারীদের একটি মোটরসাইকেল, দিপুর স্বর্ণের একটি আংটি ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় দিপুর ভাই মিঠুর দায়ের করা মামলায় আটক দুইজনকে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপহৃত দিপুর মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ এই ঘটনায় আর কারা জড়িত সেই বিষয় জানার জন্য আটক দুইজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শেয়ার