মগবাজারে বিস্ফোরণস্থলের বাতাসে ‘হাইড্রোকার্বন গ্যাস’

‘রহস্যময়’ বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত কয়েকশ’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাতাসে ‘হাইড্রোকার্বন’ গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ।

সোমবার দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমরা গ্যাস ডিটেকটর নিয়ে গিয়েছিলাম। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের আলামত আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করেছি- এটা হাইড্রেকার্বন ডিটেক্ট করে। এখানে হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।”

এর আগে ফায়ার সার্ভিস বলেছিল, মগবাজার আড়ংয়ের উল্টো দিকে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের তিনতলা ওই ভবনে গ্যাস জমেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হননি ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক সাজ্জাদ হোসাইন।

প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদও বলেছেন, বিস্ফোরণে উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলার ‘সুযোগ নেই’।

“সেখানে বাতাসে গ্যাস পাওয়া গেছে, কিন্তু গ্যাস থেকেই যে বিস্ফোরণ হয়েছে- এমনটা এখনই বলা যায় না। দুর্ঘটনাস্থলে গ্যাসের লাইনে লিকেজ হতে পারে, এটাই যে অন্যতম কারণ হতে হবে, তা নয়।”

আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উৎসটা কী এখন পর্যন্ত বলা যাবে না। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তা নিশ্চিতের সুযোগও নেই।ৃ একটার কারণে আরেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইলেকট্রিক সার্কিটের কারণে কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে আগুন লাগলে আশপাশে সিলিন্ডার বা ন্যাচারাল গ্যাসের লাইন থাকুক- তাহলে এসবও এর আওতায় চলে আসে।”

ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ধ্বংস্তূপের মধ্যে ঢুকে কোথাও মুভ করব, এমন সুযোগ ছিল না। ছাদও ভাঙা। দুয়েক জায়গায় গ্যাস ডিটেক্টর নিয়ে কাজ করা হয়েছে।”

প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক জানান, মগবাজারের ঘটনায় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, সেখানেও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন।

“তবে এ ক্ষেত্রে আলাদা প্রতিবেদন দেওয়া হবে না; পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেই আমাদের বিষয়টি যুক্ত হয়ে যাবে।”

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মগবাজার ওয়্যারলেস গেইট এলাকা কেঁপে ওঠে। পড়ে দেখা যায়, তিন তলা ভবনটির ধসে পড়ার মত দশা হয়েছে।

বিস্ফোরণের ধাক্কায় রাস্তার উল্টো দিকে আড়ং, বিশাল সেন্টার, রাশমনো হাসনপাতালসহ আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ ভেঙে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তায় থাকা দুটি বাস।

তিন তলা ওই ভবনের দোতলায় সিঙ্গারের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল। বিস্ফোরণে দেয়াল ভেঙে পণ্যের কার্টন বেরিয়ে পড়তে দেখা যায়।
নিচতলায় খাবারের দোকান শরমা হাউজ ও বেঙ্গল মিটের বিক্রয় কেন্দ্র ছিল, যা মোটামুটি মিশে গেছে। লোহার গ্রিল, আসবাবপত্র, ভবনের বিভিন্ন অংশ ছিটকে এসেছে রাস্তায়।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, বোমা হামলা মনে করে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সব বিষয় মাথায় রেখেই তারা তদন্ত করবেন।

“এটা স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমরা দুয়েকদিন অপেক্ষা করি। বিস্ফোরণের লক্ষ্য ছিল- এদিকটা (বাড়ির উত্তর) এবং এটি একমুখী ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সাধারণত এটা যদি বিস্ফোরক হত, তাহলে বহু দিকে মানে, তিন চার দিকে যেত। আর এই ঘটনায় গ্লাসের ভাঙা টুকরা ছাড়া আমরা অন্য কিছু খুঁজে পাইনি।”

তবু বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে পুলিশের ‘বম ডিসপোজাল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে বেনজীর জানান।

শেয়ার