জীর্ণ ব্যাটিংয়ের ম্যাচ জিতে সিরিজ ইংল্যান্ডের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পাওয়ার প্লেতে কোনো বাউন্ডারি নেই। গোটা ২০ ওভারে বাউন্ডারি কেবল দলের দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে। স্ট্রাইক রেট একশর বেশি মোটে একজনের। শ্রীলঙ্কা দেখাল, টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং এমনও হয়! তাদের বোলাররা অবশ্য লড়াই করল বেশ। ম্যাচ জমেও উঠল কিছুটা। কিন্তু লাভ হলো না। ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করে ফেলল ইংল্যান্ড।

বৃষ্টিবিঘিœত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারাল ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের সিরিজ ইংলিশরা জিতে নিল প্রথম দুই ম্যাচেই।

কার্ডিফে বৃহস্পতিবার ২০ ওভারে লঙ্কানরা করতে পারে মাত্র ১১১ রান। রান তাড়ায় ইংলিশরা বিপর্যয়ে পড়ে শুরুতে। তবে চ্যালেঞ্জ কঠিন নয় বলেই বিপদে বাড়েনি খুব।

১২ ওভারে তারা ৪ উইকেটে ৬৯ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। পরে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮ ওভারে ১০৩। কাজ সেরে ফেলে তারা ১১ বল বাকি রেখে।

প্রথম ম্যাচে একই মাঠে লঙ্কানদের মন্থর ব্যাটিংয়ের পর ইংল্যান্ড জিতেছিল ৮ উইকেটে।

সোফিয়া গার্ডেনের উইকেট প্রথম ম্যাচের মতোই ছিল মন্থর। বল গ্রিপ করেছে, ব্যাটে এসেছে ধীরে, শট খেলা ছিল কঠিন। ইংলিশরা বোলিংও করে বেশ ভালো। সবকিছুর পরও, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ছিল বাজে। খুব একটা অভিপ্রায় দেখাই যায়নি তাদের ব্যাটিংয়ে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে রান আউটে হারায় তারা দানুশকা গুনাথিলাকাকে। চতুর্থ ওভারে স্যাম কারানের শর্ট বলের শিকার আভিশকা ফার্নান্ডো।

অধিনায়ক কুসল পেরেরার মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যান টিকে থাকার পরও প্রথম বাউন্ডারি আসে অষ্টম ওভারে। মার্ক উডের ৯০ মাইল গতির শর্ট বলে ব্যাট পেতে দিয়ে চার পান কুসল মেন্ডিস।

এই মেন্ডিসই যা একটু বাড়াতে থাকেন রান। পেরেরা বাউন্ডারির দেখাই পাননি। বিদায় নেন ২৫ বলে ২১ করে।

মেন্ডিসও পরে বড় করতে পারেননি ইনিংস। পরপর দুই বলে মেন্ডিস (৩৯ বলে ৩৯) ও নিরোশান ডিকভেলাকে ফেরান মার্ক উড।

ধুঁকতে থাকা লঙ্কান ইনিংস কানোরকমে একশ পার হয় ইসুরু উদানার ১৪ বলে ১৯ রানের ইনিংসে। শেষ ওভারে ক্রিস জর্ডানের বলে ছক্কা-চারে ১৪ রান নেন উদানা।

এই পুঁজি নিয়েও হাল ছাড়েনি লঙ্কান বোলাররা। শুরু থেকেই তারা চেপে ধরে ইংলিশদের।

আগের ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচ জস বাটলার এ দিন ছিলেন বিশ্রামে। তার জায়গায় ওপেন করতে নেমে জনি বেয়ারস্টো শূন্য রানে বিদায় নেন বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্ডোর ভেতরে ঢোকা বলে।
টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান দাভিদ মালান আগের ম্যাচের মতো ব্যর্থ এ দিনও। পাওয়ার প্লের ভেতর আউট হয়ে যায় অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যানও। বিপজ্জনক জেসন রয়কে যখন ফেরালেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, সপ্তম ওভারে ইংল্যান্ডের রান তখন ৪ উইকেটে ৩৬।

তবে লক্ষ্য সহজ বলেই খুব চাপে পড়তে হয়নি তাদের। স্যাম বিলিংস ও লিয়াম লিভিংস্টোন পঞ্চম উইকেটে ৮ ওভারে যোগ করেন ৫৪ রান।

২৪ রান করে হাসারাঙ্গার বলে বোল্ড হন বিলিংস। স্যাম কারানকে নিয়ে বাকি পথ এগিয়ে যান লিভিংস্টোন। আকলা দনাঞ্জয়াকে গ্যালারিতে পাঠিয়ে ম্যাচ শেষ করেন কারান।

২৬ বলে অপরাজিত ২৯ করে ম্যাচের সেরা লিভিংস্টোন, কারান অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১৬ করে।

সিরিজের শেষ ম্যাচ শনিবার সাউথ্যাম্পটনে।

শেয়ার