যশোরে লেদ শ্রমিক বাচ্চু গাজী খুন ॥ প্রধান আসামি সুমনের আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে লেদ শ্রমিক বাচ্চু গাজী হত্যার প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বাচ্চু গাজীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আটক সুমন শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার লাল মিয়া ওরফে লালুর ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

নিহত বাচ্চু গাজী যশোর সদরের সতীঘাটা-কামালপুর গ্রামের রবিউল গাজীর ছেলে। তিনি শহরের শংকরপুর সন্নাসী দিঘিরপাড় এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। আটক সুমন জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তিনি রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৯ মার্চ সন্ধ্যায় বাসা থেকে রিক্সা নিয়ে বের হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁচড়া চেক পোস্ট এলাকা থেকে তিনজন লোক তার রিক্সায় ওঠে। খোলাডাঙ্গা সার গোডাউনের পাশে একটি ছোট্ট রাস্তা দিয়ে যাত্রীরা রিক্সাসহ সুমনকে নিয়ে যায়। কিছু দূর একটি ফাঁকা যায়গায় গেলে সুমনের সন্দেহ হয়। সুমন তখন রিক্সায় চার্জ নেই বলে সামনে যেতে চায় না। এসময় যাত্রীদের মধ্যে একজন সুমনের মুখে ঘুষি মারে। আরেক জনের কাছে থাকা চাকু বের করে সুমনকে আঘাত করতে বলে অন্য একজন। সুমন ওই চাকু কেড়ে নিয়ে নিজেকে রক্ষার জন্য চারিদিকে ঘুরতে থাকে। এরই মধ্যে তার সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায় একজনের বুকে চাকুর আঘাত লাগে। আর সাথে থাকা অন্য দুইজনে সুমনের রিক্সা নিয়ে চলে যায়। কিছু সময় পর বাচ্চু গাজী মাটিতে পড়ে গেলে সুমন পালিয়ে চলে যায়। গত বুধবার রাতে পুলিশ সুমনকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করে। এসময় বাচ্চু গাজীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সুমন।

পুলিশ জানিয়েছে, বাচ্চুকে তার পরিবারের লোকজন লেদ শ্রমিক বললেও মূলত সে ছিনতাই করে বেড়াতো। রিক্সা-অটো রিক্সা, ইজিবাইক ছিনতাই করাই ছিলো বাচ্চুর পেশা। তার সাথে বেশ কয়েকজন সহযোগি ছিলো। তার অন্যতম সহযোগি হলো বাচ্চুর চাচাতো শ্যালক আলামিন। তারা রিক্সা ভাড়া করে রাতের বেলায় ফাঁকা যায়গায় গিয়ে চালককে মারপিট করে ছিনতাই করতো।

ঘটনার দিন রাতে ৯ মার্চ চাঁচড়া বাজার থেকে একটি রিকসা ভাড়া করে বাচ্চু। তার সাথে আরো দুইজন ছিলো। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরাফেরা শেষে খোলাডাঙ্গা মুন্সিপাড়া যায়। সেখানে গেলে বাচ্চু ওই রিকসা চালককে দাড় করিয়ে এবং তার কাছ থেকে রিকসা কেড়ে নিয়ে আলমগীরের কাছে দেয়। আলমগীর ওই রিকসা বাচ্চুর শ্যালক আল আমিনের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। চাঁচড়া চেকপোস্টের কাছে পৌছালে ওহিদুল মোবাইল ফোনে আলমগীরকে জানায় রিকসা চালক চাকু কেড়ে নিয়ে বাচ্চুকে মেরে ফেলেছে। সে সময় আলমগীর রিকসাটি তড়িঘড়ি করে বাচ্চুর শ্যালক আল আমিনের কাছে পৌছে দিয়ে সটকে পড়ে। পুলিশ এর আগে ওই রিক্সাটি উদ্ধার করে।

শেয়ার