তীব্র সংক্রমণেও যশোরে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা

সালমান হাসান রাজিব
করোনার হটস্পট যশোরে বাড়ছে না মাস্কের ব্যবহার। যদিও এখানকার বর্তমান সংক্রমণ বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতির মধ্যে। গতকাল শুক্রবারও ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এত সংক্রমণের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীন বেশির ভাগ মানুষ। পথেঘাটে, অতিসংক্রমণ প্রবণ এলাকাতেও মুখে মাস্কবিহীন ঘোরাঘুরি চলছে। আবার যারা মাস্ক ব্যবহার করছে তারাও সঠিক নিয়ম মেনে নাক ও মুখ পুরোপুরি ঢেকে পরছেন না। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হোটেল-রেস্তোরাতে কাস্টমার বসিয়ে খাবার সরবরাহ চলছে।

অথচ সংক্রমণ শুরুর এক বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর মাস্ক সহজলভ্য হয়েছে। যশোরের সর্বত্র সস্তায় মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। চায়ের দোকান, রাস্তা-ফুটপাত, মুদিসহ সব দোকানেই মাস্ক মিলছে। কিন্তু তারপরও মাস্ক ব্যবহারে সবার মধ্যেই চরম অনীহা। যদিও জরিমানার পর মাস্কের ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সেটি সন্তোষজনক নয়। আর গ্রাম এলাকায় মাস্কের ব্যবহায় প্রায় শুন্যের কোঠায়।

দেশে এখন করোনার টিকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। আগামী জুলাই থেকে আবারো গণটিকা দান শুরু হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকানোর সর্বোত্তম উপায় মাস্কের ব্যবহার হতে পারে। কিন্তু যশোরে সংক্রমণ হার চূড়ায় উঠলেও এখনও মাস্কের ব্যবহার তলানিতেই।

সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যশোর শহরসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে লকডাউন চলছে। কিন্তু বিধিনিষেধ মানায় কারোরই আগ্রহ নেই। যশোর শহরের সর্বোচ্চ সংক্রমণ প্রবণ এলাকায় মাস্কবিহীন বিনা প্রয়োজনে ঘোরাঘুরি চলছে। সরেজমিন শহর ঘুরে দেখা গেছে, মাস্কবিহীন চলাচল বেড়েছে। জরিমানা এড়াতে অনেকে মাস্ক পকেটে ও হাতের কবজিতে ঝুঁলিয়ে রাখছে। এমনও দেখা গেছে পুলিশের গাড়ি ও তার সাইরেন শুনলে মুখে মাস্ক পরে নিচ্ছেন। আবার যারা মাস্ক পরছেন সেটিও নিয়ম মেনে নয়। কেউ নাকের নিচে, আবার কেউবা থুতনিতে মাস্ক পরছেন। করোরা মুখে একেবারেই নেই। এমন দৃশ্যচিত্র সবচে সংক্রমণ এলাকা দড়াটানাতেই। পুলিশের বসানো ব্যারিকেডেই এই এলাকাটি অতি সংক্রমণ প্রবণ উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া যেসব সরকারি বেসরকারি অফিস খোলা রয়েছে সেখানেও মাস্কের পরিপূর্ণ ব্যবহার নেই। ব্যাংক, পোস্ট অফিসসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও সেবা নিতে আসা মানুষরাও মাস্ক পরছেন না। বাজারের অবস্থাও আরো খারাপ। যশোরের বড়বাজার, রেলবাজার, তালতলা বাজার, পালবাড়ি বাজার, চাঁচড়া বাজার, শহরতলীর পুলের হাট বাজার, ধর্মতলা বাজারসহ অন্যান্য বাজারের চিত্র একই। সেখানে দোকানি ও ক্রেতাদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক থাকছে না। অথচ এইসব বহুল জনসমাগমের স্থানগুলো অতি সংক্রমণ প্রবণ।

এদিকে, যশোরে বর্ধিত সময়সীমার লকডাউনে লোকাল রুটের গণপরিবহন (বাস) চলাচল বন্ধ করেও এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনচলাচল বন্ধ করা যায়নি। ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারে করে চলাচল চলছে। আর এসব যানেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। আসন পূর্ণ করে যাত্রী তুলে এসব যানবাহন চলছে। শহরেও ইজিবাইকে দুই জনের বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। রিকসাতেও একজনের বেশী যাত্রী চড়ছে। কিন্তু ঘোষিত বিধিনিষেধে এমনটি না করতে বলা হয়েছে। এছাড়া হোটেল ও রেস্তোরাতেও খদ্দের বসিয়ে খাবার খাওয়ানোও হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় নয় এমন দোকানেও ব্যবসা চলছে। সাটার নামিয়ে দোকানিরা বাইরে বসে থাকছে। ক্রেতা আসলে ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়ে বেচাবিক্রি চলছে।

শেয়ার