তাইওয়ানের আকাশসীমায় ‘রেকর্ড সংখ্যক’ চীনা জঙ্গিবিমান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ চীনের হুমকি নিয়ে নেটো জোটের সতর্কবার্তার মধ্যেই তাইওয়ানের আকাশসীমায় রেকর্ড সংখ্যক যুদ্ধবিমান উড়াল বেইজিং।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় মঙ্গলবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা এলাকায় অন্তত ২৮ টি চীনা জঙ্গিবিমান প্রবেশ করার কথা জানিয়েছে।

এই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম বিমানও ছিল। একে গত কয়েক বছরের মধ্যে তাইওয়ানের আকাশসীমায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশ বলছে তাইপে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখ- বলে দাবি করার কারণে একে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলেই দাবি করে।

তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের তথ্যমতে, অনুপ্রবেশ করা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি জে-১৬, ছয়টি জে-১১ জঙ্গিবিমান এবং পরমাণু বোমা বহনযোগ্য এইচ-৬ বোমারু বিমান। আরও ছিল সাবমেরিন-বিধ্বংসী ও আগাম সতর্কীকরণ বিমানও।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারিতে একই ধরনের মিশনে তাইওয়ানের আকাশসীমায় ১৫টি চীনা বিমান এবং ১২ এপ্রিলে ২৫ টি বিমান অনুপ্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চল ও তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রেতাস দ্বীপের মধ্যকার জলসীমার ওপর দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে চীন।

মঙ্গলবার চীনের যুদ্ধবিমানগুলোকে তাইওয়ানের দক্ষিণ অংশের চারপাশে এবং প্রেতাস দ্বীপের কাছের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধ শেষের পর থেকে চীন ও তাইওয়ানে পৃথক সরকার রয়েছে। তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক কর্মকা-ের গন্ডি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছে চীন। প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে উভয়ই প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

সম্প্রতি তাইওয়ান-চীন উত্তেজনা বেড়েছে এবং তাইওয়ানকে ফিরে পেতে চীন প্রয়োজনে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।

তাইওয়ানকে খুব অল্প কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরও এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে অনেক দেশেরই সুদৃঢ় বাণিজ্যিক ও অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক আছে।

তাইওয়ানের সঙ্গে অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও আনুষ্ঠানিক কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইন আছে।

 

শেয়ার