স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় লাগা গুলি ৫০ বছর বয়ে বেড়াচ্ছেন নারী

রূপদিয়া (যশোর) প্রতিনিধি॥ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর ছোড়া গুলি শরীরে লেগেছিল কানিজ নাজমা জগুন বেগমের (৫৬)। সেসময় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলে শরীরে থেকে যায় গুলি। বুঝতে না পারায় ৫০ বছর শরীরে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন গুলি। সেই গুলির যন্ত্রণায় মাঝেমাঝে তিনি তীব্র ব্যাথা অনুভব করছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, অপারেশনের মাধ্যমে তা শরীর থেকে গুলিটি বের করতে হবে। কিন্তু তার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা নেই জগুনের পরিবারের। নিতান্ত কষ্টের মধ্যে তার সংসার চলে।

১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ সন্ধ্যা। যশোর শহরের দক্ষিণে চাঁচড়া রাজবাড়ির পাশে স্বাধীনতাকামী যুবকরা পাক হানাদার বাহিনীর জীপ দেখে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ ফায়ার করে পাক হানাদার বাহিনী। ভয়ে স্থানীয় নারী-পুরুষ ও শিশুরা পাশে এক বিহারীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে হানাদার বাহিনী আবার গুলি চালায়। তাদের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন চাঁচড়া রাজবাড়ি এলাকার আব্দুল জলিলের স্ত্রী পেয়ারি বেগম (৪০), পুত্র জাহাঙ্গীর (৩), আব্দুল জলিলের ভাই বজলুর রহমানের নববিবাহিতা স্ত্রী তোতা (২১), প্রতিবেশী নজরুলের স্ত্রী (৩৩) ও নজরুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া রহমানের স্ত্রী (২০)। আহত হন আব্দুল জলিল ও তার কন্যা কানিজ নাজমাসহ (৫) আরও অনেকে। এরপর পাকসেনারা উল্লাস করতে করতে মুড়লীর দিকে চলে যায়। ভয়ে আহতদের চিৎকারে সেদিন সন্ধ্যায় কেউ এগিয়ে আসেনি। পরদিন সকালে স্থানীয় মুক্তিকামীরা এসে ৫টি লাশ তুলে নিয়ে চাঁচড়া কবরস্থানে দাফন করেন।

ওই সময় গুলিবিদ্ধ কানিজ নাজমা জগুন বলেন, স্বজনদের ক্ষতবিক্ষত লাশ সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। হানাদার বাহিনী চলে যাবার অনেক সময় পর স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এতোদিন কানিজ নাজমা বুঝতে পারেননি। ২০১৬ তার কোমরে ব্যাথা হয়। চিকিৎসকের কাছে গেলে ব্যাথানাশক ওষুধ দিলে সুস্থ হয়ে উঠেন। পরে ২০১৮ সালেও একই ভাবে ব্যাথা হলে চিকিৎসকের কাছে যান। এক মাস আগে তার কোমরে তীব্র ব্যাথা হলে ঢাকার বারডেমের চিকিৎসক কামরুজ্জামানের কাছে যান। তিনি এক্স-রে এবং আল্ট্রাসনো করে দেখেন কোমরে একটি গুলি রয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন, দ্রুত অপারেশন করতে হবে। কানিজ নাজমা জগুন বলেন, তার বয়স এখন ৫৬ বছর। পুত্র ঢাকায় একটি ছোট চাকরি করেন। তার পক্ষে অপারেশনের এতো টাকা দেয়া সম্ভব নয়। এখন তিনি দুঃচিন্তায় আছেন।

শেয়ার