যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ।। বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা, স্বজন ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে বাড়ছে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা

এস হাসমী সাজু ॥ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। শুধুমাত্র শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা রেড জোন ও ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। এ সময় করোনা আক্রান্ত ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন চারজন। বর্তমানে হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০৬ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ।

হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী গতকাল শনিবার ভোর পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালের রেডজোনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ১০জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালের রেডজোনে ৬৪ জন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে ৪২জন চিকিৎসাধীন আছেন।

অপরদিকে এই সময়ের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে রেডজোনে একজন, আইসিইউতে একজন এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে রেডজোনে মারা গেছেন যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকার মাসুদুর রহমানের মেয়ে সুমি (১৪)। তিনি গত ১০ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে ডা. সানজিদা ইয়াসমিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিন বেলা ১১টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রকিব উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি শার্শার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। তিনিও গত ১০জুন রেড জোনে ভর্তি হন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের নির্দেশে তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. আহসান হাবিব তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল আটটার দিকে ইয়োলো জোনে মকছেদুল ইসলাম (৪৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের অমেদুল ইসলামের ছেলে এবং একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার নলপাতুয়া গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে। মৃতদের লাশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও হাসপাতালে আগত কোভিড-১৯ রোগীর স্বজনরা সে নির্দেশনা পালন করছেন না। আবার কোভিড-১৯ আইসোলেশন ও কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে কর্তব্যরতদের আলাদা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা না থাকায় তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে হাসপাতাল ও হাসপাতালের বাইরে করোনা ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ছয়জন ও মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চারজন রোগীর নমুনায় কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ জানান, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচারপত্র রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডে দারোয়ানকে বলা আছে। কিন্তু রোগীর সাথে আগত স্বজনরা সরকারি নির্দেশনা পালন করছেন না। ওয়ার্ডে কর্তব্যরতরা তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে রোগীর স্বজনরা মারমুখী আচরণ করেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, হাসপাতালে রোগী ভর্তির চাপ বেড়েছে। শনিবার করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা নির্ধারিত শয্যার দ্বিগুণ। বর্তমানে হাসপাতালে সকল রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি কর্তব্যরতরা পালন করলেও রোগীর স্বজনরা মানছেন না।

শেয়ার