মাথা গোঁজার ঠাঁই চান ‘বাঘবিধবা’ রুপিয়া

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ রুপিয়া বেগম (৬০) বন সংলগ্ন ভোলা নদীর তীরের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আমির পহলান সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় নিহত হন। সঙ্গিয় জেলেরা গভীর জঙ্গল থেকে আমিরের রক্তে ভেজা লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে রুপিয়াকে সান্ত¦না দেন। পরে স্বামীর রেখে যাওয়া চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে বন সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মাথা-গোজাঁর কোন ঠিকানা গোছাতে পারেননি রুপিয়া বেগম।

স্বামীহারা এই নারী পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন দাসের ভারানী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিন রাজাপুর গ্রামের ভরাট হওয়া ভোলা নদীর চরে একটি খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন। সম্প্রতি আলাপকালে রুপিয়া বেগম জানান, পারিবারিক দৈন্যতার কারণে সত্তরের দশকে ১৪ বছর বয়সে আমিরের সাথে বিয়ে হয়। পরে তাদের দাম্পত্য জীবনে ৪টি সন্তানের জন্মœ হয়।

কিন্তু কপালে সুখ নেই। তাই ১৯৮৯ সালে জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় নিহত হন স্বামী। পরিবারের উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি চলে গেলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বনের পাশে থাকতে শুরু করি। তবে তিন ছেলের পেশাও সুন্দরবনে মাছ ধরা। তাই তো ছেলেরা জঙ্গলে গেলে তার যেন দু’চোখে ঘুম আসে না। এছাড়া দুই যুগেও ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি তার। ফলে অভাবের কারণে এক সময় ভোলা নদীতে নিজেও রেনু পোনা ধরতেন। রুপিয়া বেগমের স্বপ্ন কারো সহায়তায় একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই যদি পেতেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাগেরহাট, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও মোংলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ বনের উপর নির্ভরশীল। তাই বাঘের আক্রমণে নিহতের ঘটনা কম বেশি ঘটে এ অঞ্চলে। তবে পেশাজীবিদের কেউ নিহত হলে তাৎক্ষণিক তাদের মহাজনরা লাশ দাফনের জন্য ১/২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়ে। পরে ওই পরিবারের দিকে আর ফিরেও তাকায় না কেউ।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, এ ধরনের অসহায় মানুষদের সহায়তায় সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। ওই বিধবাকে আমার অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করছি। তাকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

শেয়ার