করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর অবস্থানে যশোর প্রশাসন

 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তে পারে লকডাউনের মেয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে যশোরে ঘোষিত সাত দিনের লকডাউনের তৃতীয় দিনেও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে বিভিন্ন তল্লাশি চৌকিতে লোকজন ও যান চলাচল ঠেকাতে পুলিশ-প্রশাসনের ভুমিকা ছিলো চোখে পড়ার মতো। লকডাউনের প্রথম দুইদিনে শহরের সড়কে রিকসা-ইজিবাইকের আধিক্য থাকলেও, লকডাউনের তৃতীয় দিনে প্রশাসন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এরমধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে বাজারে মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।
চলমান করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধ না মানায় এদিন যশোর শহরে ৬টি অভিযানে ২১টি মামলায় ১০ হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে কাল বা পরশু জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি আরোও এক সপ্তাহ লকডাউনে যেতে পারে বলে জানিয়েছে কমিটির একটি সূত্র।

সরেজমিনে দিনভর শহরের দড়াটানা, চিত্রামোড়, মণিহার, নিউমার্কেট মোড় ও থানা মোড় ঘুরে দেখা যায়, সড়কের মাঝখানে ব্যারিকেট দিয়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সড়কে রিকশা ও মোটরসাইকেলে ১ জনের বেশি থাকলে পুলিশ চেকপোস্ট থেকে নামিয়ে দিচ্ছেন। তবে, চেকপোস্ট পার হয়েই আবার রিকসা বা মোটরসাইকেলে দুই বা তিন জনের বেশি যাত্রী উঠছে। অপ্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে ঘরে ফেরাতে রাস্তায় ছিলো ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এদিকে শহরসহ বড়বাজার ও আরএন রোডস্থ এলাকায় বন্ধ ছিলো দোকানপাট। সাড়ে ১১ টার দিকে এম এম আলী রোডে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দোকান খুলতে দেখা গেছে। পরে প্রশাসনের অভিযানের খবরে তক্ষণিক দোকানপাট বন্ধ করে চলে যান ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শহরের দড়াটানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দোকানপাট উচ্ছেদ করে। এছাড়া একই জায়গায় কয়েক যুবককে আড্ডা দেওয়াকালে পুলিশ তাদের প্রিকআপে তুলে থানায় নিয়ে যায়। এছাড়া দিনভর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় দোকান পাট শপিংমল ও শহরের প্রবেশ পথে কঠোরতা দেখিয়েছে পুলিশ। এছাড়া যশোর শহরের আর এন রোড, ব্যাটারি পট্টি, বড় বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট, পাড়া মহল্লায় বাড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন দোকান-পাটে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম।
এদিকে, যশোরে অব্যাহত করোনা শনাক্তের উর্ধ্বগতি কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনিবার শনাক্তের হার ছিলো ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

দড়াটানা চেকপোস্টে মোটরসাইকেলের অনেক চালককে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে দেখা যায়। তাদের বাড়ি ফেরাতে বাধ্য করে পুলিশ। যশোর শহরের দড়াটানায় দায়িত্বরত অবস্থায় যশোর কোতয়ালী থানার এস আই সুমন ভক্ত জানান, সকালের দিকে শহরে যাওয়ার জন্য অনেক মানুষের ভিড় ছিল। তবে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, শুধু চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে আসা ব্যক্তি ও যানবাহন শহরে ঢুকতে পারছে।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান জানান, লকডাউনের তৃতীয় দিনও আমরা কঠোর অবস্থানে ছিলাম। জেলা প্রশাসকের সার্বিক নির্দেশনায় সকাল থেকে যশোর পৌর শহরের প্রবেশ মুখে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল ও লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রশাসনের আরোপিত ১২ দফা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে দিনব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা দায়িত্বপালন করেছেন।

শেয়ার