সাবেক স্বামীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ॥  নারী ও তার বোনের নামে যশোর আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সাবেক স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা (২৮) নামে এক নারী ও তার বোনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহজাদুল হাসান পিকুল নামে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন। বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদক দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন, শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার এম এ মান্নানের মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা ও শিরিন সুলতানা সুমি।

মামলার বাদী বাঘারপাড়া উপজেলার আজমপুর গ্রামের মৃত আলী আহমেদের ছেলে বর্তমানে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের আব্দুর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া শাহজাদুল হাসান পিকুল অভিযোগে বলেছেন, আসামি ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার স্ত্রী ছিলেন। তার সাথে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সংসারের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে বিপাশা পরপুরুষদের পেছনে খরচ করতেন। স্ত্রী চরিত্র খারাপ হওয়ায় তিনি সংশোধন করার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছেন। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে তাকে তালাকের নোটিশও দেন। নোটিশ পেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা শরিয়ত মোতাবেক চলাফেরা করবেন মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন। ফলে তিনি নোটিশ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে তারা এক সাথে সংসার করতে থাকেন। কিন্তু ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা ফের একাধিক পুরুষের সাথে উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাফেরা শুরু করলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এতে ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং বোন শিরিন সুলতানা সুমির কুপরামর্শে অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য ফন্দি আঁটতে থাকেন। স্ত্রীর কাছে তার ৫ লাখ টাকা গচ্ছিত ছিলো। গত ১ মে বিকেলে স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা বোন শিরিন সুলতানা সুমির সহায়তায় তার ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসা থেকে গচ্ছিত সেই ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন ২ মে সকালে স্ত্রীকে নিয়ে আসতে পুরাতন কসবা কাজীপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু স্ত্রী তার সাথে আসতে অস্বীকৃতি জানান। তার ৫ লাখ টাকাও তাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে গত ২ জুন তিনি ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশাকে তালাক প্রদান করেন। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা দু’জন প্রেমিককে সাথে নিয়ে গত ৪ জুন সকালে তার ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসাতে আসেন। এ সময় ফারহানা ইয়াসমিন বিপাশা তার ঘরের সকল আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়াসহ তাকে খুন করে লাশ গুমেরও হুমকি দেন। ফলে তিনি তালাক দেয়া স্ত্রীর কথিত প্রেমিকদের ভয়ে বাঘারপাড়ার আজমপুর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেয়ার