ভৈরব নদের পাড়ে বনবিভাগের বনায়ন প্রকল্প

 ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন’ দাবি করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ভৈরব নদের পাড়ে ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন’ শত শত বিঘা জমিতে জোরপূর্বক গাছ লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক বনবিভাগের এ কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। যশোর সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের ব্যক্তি মালিকাধীন জমি তাদের না জানিয়ে জোরপূর্বক দখলে নিয়ে এ প্রকল্প শুরু করেছে বনবিভাগ বলে দাবি করেছেন জমির মালিকরা। বনবিভাগের এমন সিদ্ধান্তে ফতেপুর ও কচুয়া ইউনিয়নের ভৈরব নদের পাড়ের প্রায় একশ’ জমির মালিক বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার ভগবতীতলা গ্রামের নদের পাড়ে জড়ো হয়ে তাদের জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। নিজেদের জমি ফেরত না পেলে লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরব নদ খননের সময় দু’পাড়ের কিছু জমি তাদের হারাতে হয়েছে। তবুও নদ খননে স্থানীয়রা লাভবান হবে বিধায় এ কাজে বাধা দেননি। এরপর দু’পাড়ের ৩০ থেকে ৪০ ফিট পর্যন্ত জমি দখলে নিয়ে গাছ লাগাচ্ছে বনবিভাগ বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এসব হারিয়ে বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছেন জমির মালিকরা বলে দাবি করেন।

কচুয়া ইউানয়নের ভগবতীতলা গ্রামের বাসিন্দা একরাম হোসেনের একশ’ ১১ শতক, ইমামুল হকের একশ’ ৭৫ শতক, আনোয়ার হোসেনের ৭০ শতক, আব্দুল লতিফ গংয়ের দেড়শ’ শতক, নূর মোহাম্মদ গংয়ের একশ’২০ শতক, আবুল হোসেন গংয়ের তিনশ’ শতক, শরিফুল ইসলামের ২০ শতক, আসলাম তরফদারের ৩৩ শতক, রায়মানিক গ্রামের তরুণ ঘোষ গংয়ের একশ’১০ শতক, খগেন্দ্রনাথ ঘোষের একশ’ শতক জমি তাদের সম্মতি ছাড়াই দখলে নিয়ে গাছ লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানেনা। উল্টো কোনো প্রশ্ন করতে গেলে গাছ লাগানো কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন। শুধু তারাই নয়, ভগবতীতলা গ্রামের তিনশ’ পরিবারসহ ফতেপুর, কচুয়া ও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের কয়েকশ’ একর জমিতে বনায়ন কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। ভৈরব পাড়ের মোট ১০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বনায়ন প্রকল্প করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫ দিন ধরে ১০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। ১৯৯০ সাল থেকে নদের পাড়ের রেকর্ডকৃত জমি ভোগদখলে রেখে কৃষিকসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কিন্তু সামাজিক বনবিভাগ কিছু স্থানীয়কে নিয়ে হঠাৎ এমন প্রকল্প শুরু করেছে বলে দাবি করেন জমির মালিকরা।

তবে, যশোরের সামাজিক বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জমির মালিকদের সম্মতিতে নদের পাড় ও পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। যা স্থানীয় চেয়ারম্যান জনসাধারণদের নিয়ে উদ্বোধন করেছেন। যাদের জমিতে গাছ লাগানো হচ্ছে তাদের নিয়ে একটি সমিতি করা হয়েছে। গাছ বিক্রির সময় নিয়মানুযায়ী মালিকরা ভাগ পেয়ে যাবেন। স্থানীয় এলাকার গুটিকয়েক লোক এ কাজের বিরোধিতা করছেন বলে দাবি করেন এ কর্মকর্তা। আর এই বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে এই বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার