ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ॥ শার্শায় বিজিবি সদস্যকে ধরে বেধড়ক মারপিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের শার্শা সীমান্তে এক বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত বিজিবি সদস্যকে হাতেনাতে ধরার পর তাকে খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারপিট করেছে বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারের সহায়তায় তাকে ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে পরদিন বিজিবি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্যাম্প থেকে অভিযুক্তসহ ৪ সদস্যকে প্রত্যাহার করে।

ভুক্তভোগী সূত্র মতে, শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী শালকোনা গ্রামে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রশিদের বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে গত সোমবার (৭ জুন) বিকালে তিনজন বিজিবি টহল সদস্য অবস্থান করছিল। তারা অবস্থান করাকালে আমার নিকট খাবার পানি গ্রহণ করেন এবং সময় কয়টা বাজে সেটা জানতে চান। পরে তারা স্থান ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা ৭টার পর অভিযুক্ত বিজিবি সদস্য পাশেই শালকোনা বিওপি ক্যাম্প থেকে ফিরে এসে ওই স্থান ঘুরে যান। তারপর রাত ১১টার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাহিরে গেলে বিজিবি সিপাহী সাইফুল ইসলাম আমাকে কিছু বুঝে উঠার আগেই পিছন থেকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় আমি চিৎকার করলে আমার প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বিজিবি সদস্যকে আটক করে বেধড় মারধর করে। এরপর উপস্থিত প্রতিবেশীরা তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং বিজিবি সদস্যকে আটক করে রাখে।

এদিকে স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকালে তিনজন বিজিবি সদস্যকে ক্যম্পের পাশে বাঁশবাগানে অবস্থান করতে দেখেন। বিষয়টি তাদের সন্দেহজনক হলে বিজিবি সদস্যদের গতিবিধি নজরে রাখেন। এ অবস্থায় সংঘবদ্ধ হয়ে রাত ১১টার দিকে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে বিজিবি সদস্য সাইফুল ইসলাম বেরিয়ে যাবার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে বেধড়ক মারপিট করে। মারপিটে তার একটি দাত ভেঙ্গে যায় বলে স্থানীয়রা জানায় এবং তাকে খুঁটির সাথে বেধে রাখা হয়। ঘটনা জানতে পেরে ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুর রহিম বিজিবি সদস্যকে উদ্ধারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সহায়তা কামনা করেন। পরে তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সদস্যকে ছেড়ে দেবার জন্য নির্দেশ দেন। পরে ইউপি সদস্য তোতা মিয়ার উপস্থিতিতে একটি সাদা কাগজে বিজিবির পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর দিন মঙ্গলবার সকালে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন পরিচালক লে. কর্র্নেল সেলিম রেজা সরেজমিন ক্যাম্প পরির্দশন করে ৪ জন সদস্যকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউপি সদস্য তোতা মিয়া বলেন বিষয়টি স্থানীয়দের মাধম্যে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিজিবির নায়েক সুবেদার আব্দুর রহিমের জিম্মায় সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে অভিযুক্তকে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান হোসেন আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, বিজিবি সদস্য প্রবাসীর স্ত্রীর বিষয়টি তিনি বিজিবি নায়েক সুবেদারের মাধ্যমে জানতে পেরে আমি মোবাইলে ইউপি সদস্যকে তাকে বিজিবি জিম্মায় দেবার জন্য নির্দেশ দেয়। পরে তাকে বিজিবি কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে জানতে কাশিপুরস্থ বিজিবি ক্যাম্পে কোম্পানি কমান্ডারের নাম্বারে কল দিলে তিনি ঘটনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঘটনাস্থল শালকোনা ক্যাম্পে যোগযোগ করা জন্য বলেন।

শেয়ার