যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল করোনার ইয়োল জোন
স্বজনদের অবাধ যাতায়াতে করোনা বৃদ্ধির আশংকা

এস হাসমী সাজু
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনার ইয়োল জোনে ভর্তি রোগী ও স্বজনরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। স্বজনরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ওয়ার্ডের মধ্যে যাতায়াত করছেন। এমনকি অনেক রোগী ও স্বজনরা ওয়ার্ডে থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। ফলে তাদের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ছড়াতে পারে বলে হাসপাতাল এলাকার বসবাসকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, কর্তৃপক্ষ ইয়োল জোন সংরক্ষিত করলেও রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালের বিধি-নিষেধ মানছেন না।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ জুন থেকে ৮ জুন (অর্থাৎ গত আট দিনে) এই ওয়ার্ডে মোট ৬৫ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ভর্তি পরবর্তী ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়। তাদেরকে রেড জোনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময় ওই ওয়ার্ডে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল এলাকা তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার জানান, প্রতিদিন হাসপাতালের ইয়োল জোনে রোগী ভর্তি হচ্ছে। সেই ভর্তি রোগীদের দেখতে অবাধে ৬/৭ জন করে স্বজন আসছেন। তারা ওয়ার্ডে রোগী দেখে আবার হাসপাতালের সামনে চায়ের দোকানে এসে আড্ডা দিচ্ছেন। এতে করে তাদের মাধ্যমে এলাকায় করোনা ছড়ানোর আশংকা রয়েছে।

একইভাবে অভিযোগ করে ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার বাসিন্দা আক্রাম হোসেন বলেন, এমনিতে প্রশাসনের নির্দেশে এই ওয়ার্ড ‘লকডাউন’ চলছে। তার পরে হাসপাতালও এই ওয়ার্ডের মধ্যে। কিন্তু হাসপাতালের ইয়োল জোনে থাকা রোগী ও স্বজনরা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে হাসপাতালের গেটে এসে আড্ড দিচ্ছেন। এর ফলে এলাকায় করোনা ছড়াতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রেড জোনের রোগীদের যে পদ্ধতিতে রেখেছেন, একইভাবে তাদের রাখার ব্যবস্থা নিতে আহবান জানান।

এদিকে ইয়োল জোনের ওয়ার্ড ইনচার্জ শাহানাজ জানান, ওয়ার্ডে তিন স্তর রয়েছে। এরমধ্যে রোগী ভর্তির পরে তার সাথে একজন থাকবেন। তিনি ওষুধ, পানি, খাবারের জন্য রুমের বাহিরে এসে বারান্দায় থাকা স্বজনদের জানাবেন। তারা মোবাইল ফোনে বা ওয়ার্ডের সামনে থাকা স্বজনদের দিয়ে সে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে রোগী পর্যন্ত দিবেন। কিন্তু ওয়ার্ডের ভর্তি রোগী ও স্বজনরা সেই নিদের্শনা মানছেন না। এতে করে ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক, সেবিকাসহ অন্যরাও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহম্মেদ জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য বিধি নির্দেশনা মানছেন না আগতরা। তাদের একাধিক বার বলা হলেও তারা কর্তব্যরতদের উপর মারমুখি আচরণ করেন। তারপরও সরকারি স্বাস্থ্য বিধি যাতে মানে সে ব্যাপারে জোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, ইয়োল জোনে রোগীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সে বিষয়ে জেলা কোভিড-১৯ কমিটির সাথে আলাপ হয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আগামীতে আরও কড়াকড়ি হবে।

শেয়ার